1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

পোল্যান্ডে মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২
  • ২৭৭ Time View

তাতার মুসলিমরাই মধ্য ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন ধর্মীয় সংখ্যালঘু। খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতক থেকে ইউরোপীয় ইতিহাসের অংশ। তাতার মুসলিমরা প্রথম ‘পোলিশ-লিথুনিয়া’ যুক্তরাষ্ট্রে বসতি স্থাপন করে এবং কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত পোল্যান্ডকে রক্ষায় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধীরে তারা পোলিশ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
পোল্যান্ডের মুসলিম তাতার ইউনিটটি পোলিশ-লিথুনিয়া বাহিনীর সব গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে। যেমন—গ্রুনওয়াল্ডের যুদ্ধ (১৪১০ খ্রি.), পোলিশ-টিউটনিক যুদ্ধ (১৫১৯-২১ খ্রি.)। পোলিশ-লিথুনিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি যুদ্ধ ছিল জেরুজালেমের সেন্ট মেরিজ হসপিটালের ‘অর্ডার অব দ্য টিউটনিক নাইকস’-এর সঙ্গে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে শত্রুপক্ষ এই ঘোষণা দিয়ে ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের সমর্থন লাভ করেছিল যে পোলিশ-লিথুনিয়ায় তারা স্রষ্টায় অবিশ্বাসী পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ১৫ জুলাই ১৪১০ খ্রিস্টাব্দে পোলিশ-লিথুনিয়া বাহিনী তাদের পরাজিত করে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে মুসলিম সৈন্যরা। তাদের সংখ্যা ছিল দুই হাজার।

 

পোল্যান্ডের রাজা প্রথম সিগিসমন্ড ১৫১৯-২০ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনীতে তাতার মুসলিমদের সংখ্যা তিন হাজারে উন্নীত করেন। এ ছাড়া তাতার মুসলিমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৬৬০-৩ খ্রিস্টাব্দের এবং ১৭৯০ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহেও অংশগ্রহণ করে। ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ডে সোভিয়েত রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও মুসলিম অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল।

সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার : পোল্যান্ডে আগমনের শুরু থেকেই মুসলিমরা ধর্মপালন ও মসজিদ নির্মাণের স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে। পোল্যান্ডে মুসলিম সমাজ ছিল মসজিদকেন্দ্রিক। একজন মোল্লা সামাজিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিতেন। মোল্লাদের নির্বাচন করতেন সম্প্রদায়ের আলেমরা। এসব মোল্লা শুধু মসজিদের নেতা ছিলেন না, বরং তাঁরা অফিস-আদালতে নিজ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতেন, জন্ম ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করতেন এবং প্রাশাসনিক কাজের শপথ গ্রহণ করতেন।
ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ভূমির বিনিময়ে সেনা বাহিনীতে কর্মরত তাতার মুসলিমরা লিথুনিয়ান অভিজাত শ্রেণির সমমর্যাদাসম্পন্ন বলে গণ্য হতেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে মুসলিম তাতাররা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজাত শ্রেণির সব সামাজিক অধিকার লাভ করে। অষ্টদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ্বে মুসলিমদের ভূমির মালিকানা অনুদান থেকে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে উন্নীত হয়। ৩ মে ১৭৯১ সালে অনুমোদিত সংবিধান মুসলিমদের পরিপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার প্রদান করে। কিন্তু ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া, প্রুশিয়া, হাবসবার্গ অস্ট্রিয়া কর্তৃক তৃতীয় বিভাজনের মাধ্যমে পোল্যান্ড স্বাধীনতা হারায় এবং বেশির ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

বর্তমানে মুসলমানের অবস্থা : ১৯১৮ সালে পোল্যান্ড স্বাধীন হওয়ার পর মুসলিমরা আগের মতোই স্বাধীনতা লাভ করে। তবে পোল্যান্ডের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তখন পোল্যান্ড-লিথুনিয়ায় ভূমির স্বত্বাধিকারী মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার। ১৯২৫ সালে পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র, ধর্ম ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে দেশটির সব প্রতিনিধিত্বশীল মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং ‘মুসলিম রিলিজিয়াস ইউনিয়ন’ (এমজেডআর) গঠন করে। এমজেডআরের সঙ্গে কয়েক বছরের ধারাবাহিক আলোচনার পর সরকার ২১ এপ্রিল ১৯৩৬ সালে আইন পাস করার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে। আইনে এমজেডআর পরিচালনার নীতিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধানের মর্যাদা অন্য রাষ্ট্রস্বীকৃত ধর্মের নেতৃত্বদানকারীদের সমান ঘোষণা করা হয়।

এই আইনের অধীনে মুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রীয় অনুদান লাভ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করার অধিকার, সম্পদ ওয়াকফ করার সুযোগ, সেনাবাহিনী ও হাসপাতালে মুসলিম ধর্মগুরু নিয়োগ, বিচারক পদমর্যাদায় মুফতি নিয়োগের অধিকার লাভ করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মুসলিম অধুষ্যিত আরো অঞ্চল পোল্যান্ডের মানচিত্রের বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে ‘রিপাবলিক অব পোল্যান্ড’ গঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে। এরপর অন্য নাগরিকদের মতো পোলিশ মুসলিমরাও তাদের ধর্মচর্চা ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।

তবে কোনো সন্দেহ নেই, বর্তমানে পোল্যান্ডে মুসলিমরা একটি ছোট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মাত্র। ২০০২ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে এবং এমজেডআরের তথ্যমতে পোল্যান্ডে স্থানীয় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৫১২৩ জন। এর বাইরে ছিল ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার অভিবাসী মুসলিম। ধারণা করা হয়, বর্তমানে মুসলমানের সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।

তথ্যঋণ : ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারশের অধ্যাপক আগাতা এস. নালবোরস্কিকের প্রবন্ধ ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন অব পোলিশ মুসলিম’ ও তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদুলু এজেন্সি
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com