1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিনিয়ত আল্লাহ যেভাবে বান্দার সাহায্যে এগিয়ে আসেন জগন্নাথপুরে ‘মোবাইল মার্কেট’ ব্যবসায়ীদের কমিটি নতুন গঠন বটির কোপে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন, ‘খুনি’ ছেলের কারাগারে মৃত্যু পায়ুপথে ‘সোনার ডিম’, আসামির ৫ দিনের রিমান্ড শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন এখন চলছে না:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জগন্নাথপুরে চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার: ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ব্যাংকে পরিশোধ করলেন গ্যারেজ মালিক ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জগন্নাথপুরে ‘ফল বিপর্যয়ের কারণ ইন্টারনেট আসক্তি’, উদ্বিগ্ন অভিভাবক রাজধানীর আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, কাভার্ড ভ্যানে আগুন জগন্নাথপুরে বিএনপির অফিস ভাংচুর, পুলিশের চার্জশিটে মৃত ব্যক্তি!

প্রতিনিয়ত আল্লাহ যেভাবে বান্দার সাহায্যে এগিয়ে আসেন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১ Time View
মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়া, আশা-নিরাশা, সফলতা-ব্যর্থতা—এসব যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানুষ যখন কাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু অর্জন করে, তখন সেটাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মনে করে।

আবার যখন কোনো স্বপ্ন ভেঙে যায়, প্রার্থিত কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয় কিংবা জীবনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে পড়ে, তখন অনেকেই মনে করেন আল্লাহ হয়তো তার প্রতি অসন্তুষ্ট।অথচ একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। সে বিশ্বাস করে, তার জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও রহমতের অধীনেই সংঘটিত হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বান্দার বর্তমান নয়, তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সবকিছু জানেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে ভালো মনে করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৬)কখনো কখনো মানুষ ব্যর্থতাকে জীবনের সমাপ্তি মনে করে।

কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—প্রতিটি ব্যর্থতার আড়ালেও আল্লাহর কোনো না কোনো হিকমত লুকিয়ে থাকে। আমরা শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাটি দেখি, কিন্তু আল্লাহ জানেন সেই দরজার ওপারে কী অপেক্ষা করছে। হয়তো যে চাকরিটি আপনি পাননি, সেটি আপনার দ্বীন, পরিবার কিংবা মানসিক প্রশান্তির জন্য ক্ষতিকর ছিল। হয়তো যে সম্পর্কটি ভেঙে গেছে, সেটি ভবিষ্যতে আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার কারণ হতে পারত।হয়তো যে ব্যবসাটি সফল হয়নি, তার মধ্যে এমন ক্ষতি লুকিয়ে ছিল, যা থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করতে চেয়েছেন।

তাই একজন মুমিন ব্যর্থতার মধ্যেও আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের সন্ধান করে। তাইতো মহানবী (সা.) মুমিনের জীবন সম্পর্কে এক অসাধারণ সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। যখন সে সুখ পায়, তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে; এতে তার কল্যাণ হয়। আর যখন দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হয়, তখন ধৈর্য ধারণ করে; এতেও তার কল্যাণ হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৯৯৯)জীবনের কঠিন সময়গুলো মানুষকে ভেঙে দেয় না; বরং অনেক সময় তাকে আরো শক্তিশালী, পরিণত ও আল্লাহমুখী করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)

এই আয়াতগুলো মুমিনকে আশা ও সাহস জোগায়। কারণ আল্লাহ যখন পরীক্ষা দেন, তখন সেই পরীক্ষার মধ্যেই মুক্তির পথও নির্ধারণ করে রাখেন। একজন মুমিন বিশ্বাস করে যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সবই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালার অংশ। তাই সে হারিয়ে যাওয়া বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আফসোস করে না এবং প্রাপ্ত বিষয় নিয়ে অহংকারও করে না। মহানবী (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা কখনো তোমার জন্য নির্ধারিত ছিল না; আর যা তোমার কাছে এসেছে, তা কখনো তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারত না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৫১৬)

মনে রাখতে হবে, আল্লাহ বান্দার শত্রু নন; তিনি পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞ রব। তাই কোনো দরজা বন্ধ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় যে ব্যর্থতাকে আমরা দুর্ভাগ্য মনে করি, সেটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে নিখুঁত ব্যবস্থা। আর এটাই হলো আল্লাহ যেভাবে তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করেন তার এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী বাস্তবতা।

ব্যর্থতার পর একজন মুমিনের করণীয়

ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে একজন মুমিনের উচিত, আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করা। ধৈর্য ও সবরের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। নিজের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করা। নতুনভাবে পরিকল্পনা করে আবার চেষ্টা করা। বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও নফল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়া। অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক উত্তম।

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com