জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ১৬৬২ গ্রামের তিনটি ‘সোনার ডিম’ বিদেশ নেওয়ার চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার মোহাম্মাদ মিনহাজের পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই হাবিবুল হাসিব সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন এবং অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়, চক্রের মূল হোতা এবং চোরাচালানের অর্থের উৎস ও লেনদেনের তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
গ্রেপ্তার মিনহাজের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান থানার নতুন হাট এলাকায়। তিনি গত ১ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবি যাওয়ার জন্য টিকিট করেছিলেন। এ সময় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে গোপন তথ্য আসে, মিনহাজের পায়ুপথে স্বর্ণ লুকানো রয়েছে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরের ডিপারচার বোর্ডিং ব্রিজ-সি-৪ সংলগ্ন হোল্ডিং লাউঞ্জ থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। পরে অধিকতর পরীক্ষার জন্য তাকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তার পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির তিনটি সোনার পেস্ট ভরা প্যাকেটের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।
তার কাছ থেকে উদ্ধার সোনার পেস্ট ভরা ডিম্বাকৃতি প্রতিটি প্যাকেটের ওজন ৪৫৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা সোনার পেস্টের ওজন ১ হাজার ৬৬২ গ্রাম। জুয়েলারি ব্যবসায়ীর পরীক্ষায় এগুলো ২৪ ক্যারেটের সোনার পেস্ট বলে প্রত্যয়ন করা হয়।
পরিশোধনের পর এসব সোনার পেস্ট থেকে আনুমানিক ১ হাজার ২৬০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাফায়েত উল্লাহ ভূইয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সূত্র-বিডিনিউজ২৪.কম