আর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো, যৌবন। এটি আল্লাহর ইবাদতে, জ্ঞানার্জনে ও কল্যাণের কাজে লাগানোর মতো মূল্যবান সময়।
যে যৌবন মহান আল্লাহর একত্ববাদকে আঁকড়ে ধরতে শেখায়, জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ করতে শেখায়, সে যৌবন মহান আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠ যৌবন। পবিত্র কোরআনে আসহাবে কাহফের যুবকদের কথা এসেছে, যারা জালিম শাসকের সামনে নিজেদের ঈমান বাঁচাতে ঘর ছেড়েছিলেন।
অন্য আয়াতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর যৌবনকালের সেই সাহসী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন তিনি সৎসাহস নিয়ে নিজের সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৬০-৬৮)
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজ সংস্কারে যুবকদের সৎসাহস ও যুবশক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সত্যের পক্ষে লড়াই করার জন্য ঈমানি শক্তি, জ্ঞানের শক্তি, দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক শক্তিরও প্রয়োজন আছে। যার সবগুলোই যুবকদের মাঝে একসঙ্গে পাওয়া যায়। আর শক্তিশালী মুমিনরাই আল্লাহর প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৯)
যুবকদের হাতেই সমাজবদলের চাবিকাঠি থাকে। যুগে যুগে সমাজ সংস্কার ও ন্যায়ের পক্ষে যুবকরাই শক্ত প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্যই হয়তো কবি বলেছেন,
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়…
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যৌবনেই করতে হয়। দুনিয়ার সমৃদ্ধি ও আখিরাতের মুক্তি পেতে যৌবন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলতে হয়।
তাই যৌবনের নিয়ামতকে মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের চরিত্র রক্ষা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, মানুষের কল্যাণে কাজ—সবই যৌবনের মূল্যবান ইবাদত। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস এবং সমাজবদলের স্বপ্ন তখনই সফল হয়, যখন সেগুলোর ভিত্তি থাকে আল্লাহর ভয় ও নিজের আত্মসংশোধনে। যুবকদের কাঁধেই আজ উম্মাহর ভবিষ্যৎ, আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহামূল্যবান নিয়ামতের শোকর আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সৌজন্যে কালের কন্ঠ