1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
যৌবন আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময় কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শতভাগ পাশ নেই জগন্নাথপুরে মা-বাবার মতো শিক্ষক হতে চায় এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের জেরিন রাধারমণের ১১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতিসভা জগন্নাথপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন দুই হাতেই নেই, পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেলেন রফিকুল এইচএসসিতে টানা ৪র্থ বারের মতো শীর্ষে পাটলী উইমেন্স কলেজ

যৌবন আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময়

  • Update Time : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ০ Time View
যৌবন মহান আল্লাহর দেওয়া এক মহা আমানত। ইহকাল ও পরকালকে সাজানোর শ্রেষ্ঠ সময়।

কারণ এই সময়ে শরীরে শক্তি থাকে, মনে স্বপ্ন থাকে, আর বুকে থাকে সাহস। ইসলাম যৌবনকে শুধু আনন্দের সময় হিসেবে দেখে না, দেখে দায়িত্ব ও পরীক্ষার সময় হিসেবে। যারা এ বিষয়ে উদাসীন থাকবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর যারা এ সময়ের মূল্যায়ন করে যথাযথ কাজে আত্মনিয়োগ করবে, তারা সফল হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামত এমন আছে, যেগুলোর ব্যাপারে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত : সুস্থতা ও অবসর।
’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)অতএব যৌবনের সময়কে মাস্তি করার হিসেবে বিবেচনা করে স্রেফ হেলাফেলায় দিন কাটানোর সুযোগ নেই। কঠিন কিয়ামতের দিন কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগ পর্যন্ত বান্দার পা সরবে না। তার মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো, ‘জীবনকাল কোন কাজে ক্ষয় করেছে?’  (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

আর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো, যৌবন। এটি আল্লাহর ইবাদতে, জ্ঞানার্জনে ও কল্যাণের কাজে লাগানোর মতো মূল্যবান সময়।

এই সময়ের ইবাদতের মর্যাদাও মহান আল্লাহর কাছে বেশি। হাদিস শরিফে এসেছে, সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে। তাদের একজন হলো সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে উঠেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

যে যৌবন মহান আল্লাহর একত্ববাদকে আঁকড়ে ধরতে শেখায়, জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ করতে শেখায়, সে যৌবন মহান আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠ যৌবন। পবিত্র কোরআনে আসহাবে কাহফের যুবকদের কথা এসেছে, যারা জালিম শাসকের সামনে নিজেদের ঈমান বাঁচাতে ঘর ছেড়েছিলেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তারা ছিল কতিপয় যুবক, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল, আর আমি তাদের হেদায়েত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১৩) 

অন্য আয়াতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর যৌবনকালের সেই সাহসী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন তিনি সৎসাহস নিয়ে নিজের সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৬০-৬৮)

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজ সংস্কারে যুবকদের সৎসাহস ও যুবশক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সত্যের পক্ষে লড়াই করার জন্য ঈমানি শক্তি, জ্ঞানের শক্তি, দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক শক্তিরও প্রয়োজন আছে। যার সবগুলোই যুবকদের মাঝে একসঙ্গে পাওয়া যায়।  আর শক্তিশালী মুমিনরাই আল্লাহর প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৯)

যুবকদের হাতেই সমাজবদলের চাবিকাঠি থাকে। যুগে যুগে সমাজ সংস্কার ও ন্যায়ের পক্ষে যুবকরাই শক্ত প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্যই হয়তো কবি বলেছেন,

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়…

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যৌবনেই করতে হয়। দুনিয়ার সমৃদ্ধি ও আখিরাতের মুক্তি পেতে যৌবন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলতে হয়।

তাই যৌবনের নিয়ামতকে মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের চরিত্র রক্ষা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, মানুষের কল্যাণে কাজ—সবই যৌবনের মূল্যবান ইবাদত। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস এবং সমাজবদলের স্বপ্ন তখনই সফল হয়, যখন সেগুলোর ভিত্তি থাকে আল্লাহর ভয় ও নিজের আত্মসংশোধনে। যুবকদের কাঁধেই আজ উম্মাহর ভবিষ্যৎ, আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহামূল্যবান নিয়ামতের শোকর আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সৌজন্যে কালের কন্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com