1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা

শ্রদ্ধাঞ্জলি-মানস রায়

  • Update Time : সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮
  • ৬১৯ Time View

মৃত্যু জীবনের চরমতম সত্য। জীবন চক্রের ধারাবাহিকতার শেষ পরিনতি মৃত্যু। কিন্তু তার পরও কিছু কিছু মৃত্যু শুধু পরিবারকে নয় নির্দ্দিষ্ট অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চ্চর্চা ও বিকাশকেও ক্ষতিগ্রস্থ করে। তেমনি একটি মৃত্যু হচ্ছে অকালে মানস রায়ের চলে যাওয়া। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মানস রায়। নাট্যকার,অভিনেতা, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং একজন অসাধারণ পাঠক ছিলেন তিনি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী মানস রায়ের মত পাঠক খুব কম জনকেই দেখেছি আমি। বই পড়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন বুভুক্ষ। আজকাল বই পড়ার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ যেখানে দুর্লভ সেখানে মানস রায় ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী। অথচ মননের বিকাশে,চেতনার জাগরণে বই ই হচ্ছে অন্যতম প্রধান উপকরণ। তাঁর সাথে যখনই আমার দেখা হয়েছে অধিকাংশ সময়ই কোন না কোন বই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নানা সময় আমার সংগ্রহে থাকা বই নিয়ে তিনি পড়েছেন এবং আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি যে বইটি পড়তে আমার কমপক্ষে এক সপ্তাহ লেগেছে বা লাগবে দুদিনে সম্পূর্ণ বইটি পড়ে তিনি ফেরত দিয়েছেন।

মঞ্চে তাঁর অভিনয় দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি কিন্তু একদিন জগন্নাথপুরের ততকালীন টি ডি সি হলে একটা রিহার্সে তাঁর অভিনয় দেখে আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, এমন অভিনয় জীবনে আমি আগে কখনো দেখিনি। অথচ আমার জীবনে আমি অনেক নাম করা শিল্পীর অভিনয় দেখেছি যাত্রা পালায়।

আমার ধারণা তিনি একজন সত্যিকার সংস্কৃতি কর্মী ছিলেন। সংস্কৃতি চর্চাকে তিনি কখনই পেশা বা ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেননি। আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই অনেকেই সংস্কৃতি চর্চাকেই বেনিয়া করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যা মানস রায় কখনো করেননি। এখানেই তার স্বাতন্ত্র। সংস্কৃতি চর্চাকে তিনি পণ্য না ভেবে সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচনা করতেন। প্রগতি বিমুখ সমাজে সংস্কৃতি চর্চা যে কত কঠিন একমাত্র সংস্কৃতি কর্মীরাই তা বুঝেন। সংস্কৃতি চর্চার দুঃসময়েও তিনি হতাশ হননি। সংস্কৃতি চর্চার জন্য যে পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন সেই পৃষ্টপোষকতা খুব সহজলভ্য বিষয় নয়। যারা এই পৃষ্টপোষকতা করেন সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই হোক না কেন তাতেও নানা মাত্রার রাজনীতি ও লাভ ক্ষতির হিসেব থাকে। ফলে প্রকৃত সংস্কৃতি কর্মীরা না পান পৃষ্টপোষকতা না পান যতার্থ স্বীকৃতি। তাতে একজন সংস্কৃতি কর্মী যতটা না ক্ষতিগ্রস্থ হন তারচে অনেক বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় সংস্কৃতি চর্চার বিকাশের ধারা। প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যিনি বেশ কটি নাটক রচনা ও মঞ্চায়ন করেছেন

তিনি কি তার প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু জীবিতবস্থায় পেয়েছেন?

উদীচী ও খেলাঘর ছাড়া উপজেলার অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাঁকে কতটুকু মূল্যায়ন করেছে এটা নিশ্চয় অনেককে ভাবায়।

গুনী মানুষের কদর যেমন কেবলমাত্র গুনীরাই করতে জানেন তেমনি কদরবিহীন সমাজে গুনী মানুষ সৃষ্টি হয়না।

সমাজের সর্বত্র যখন মুক্তবুদ্ধির আলোকিত মানুষের সংখ্যা কমে গিয়ে ক্ষমতাবান মানুষের দাপটের কাছে স্বার্থপর মেরুদন্ডহীন মোসাহেবের সংখ্যা বাড়ছে সেখানে মানস রায়ের অসময়ে চলে যাওয়া আমাদের কিছুটা হলেও অসহায় করে তোলে।

তাঁর চলে যাওয়ার এই বেদনাবিধূর কালে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করছি।

মানস রায় আপনি শান্তিতে থাকুন আর আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি গ্রহণ করুন।

::লেখক-মনোরঞ্জন তালুকদার,সহকারী অধ্যাপক জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com