1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

সত্যিকারের তাওবা যেভাবে মানুষকে পবিত্র করে

  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত বুরাইদাহ (রা.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, মাইজ ইবনু মালিক আল-আসলামি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি; আমি ব্যভিচার করেছি। আপনি আমাকে পবিত্র করে দিন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরদিন মাইজ আবার তাঁর কাছে এসে একই কথা বললেন। নবীজি (সা.) এবারও তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে একজন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে মাইজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন।

তাদের জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তোমরা কি তার মধ্যে কোনো মানসিক বিকৃতি লক্ষ্য করেছ? তার বুদ্ধিবিভ্রাট ঘটেছে কি?’ তারা বলল, ‘আমরা তো তার মধ্যে এমন কোনো কিছু জানি না। আমরা জানি, সে সুস্থ ও স্বাভাবিক।’ 

এরপর মাইজ তৃতীয়বার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। নবীজি (সা.) আবারও তাঁর গোত্রের লোকদের কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন।

তারাও জানাল, মাইজ সুস্থ-স্বাভাবিক এবং তার মানসিক কোনো সমস্যা তারা জানে না। অবশেষে মাইজ চতুর্থবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন। তখন তাঁর অপরাধের শরয়ি শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তার ওপর হদের শাস্তি কার্যকর করা হয়।এরপর গামিদ গোত্রের এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি ব্যভিচার করেছি। আমাকে পবিত্র করে দিন।

’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ফিরে যেতে বললেন। কিন্তু পরদিন সেই নারী আবার এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে কেন ফিরিয়ে দিচ্ছেন? সম্ভবত আপনি আমাকে মাইযের মতোই ফিরিয়ে দিতে চাইছেন। আল্লাহর শপথ! আমি গর্ভবতী।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যেহেতু তুমি ফিরে যেতে চাচ্ছ না, তাই আপাতত ফিরে যাও এবং সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।’ নারীটি ফিরে গেলেন। সন্তান প্রসবের পর শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে তিনি আবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি সন্তান প্রসব করেছি।’ 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ফিরে যাও। তাকে দুধ পান করাও। দুধ পান করানোর সময় শেষ হলে তারপর এসো।’ নারীটি আবার ফিরে গেলেন। দীর্ঘ সময় পর শিশুর দুধপানের পর্যায় শেষ হলে তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। তখন শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! এই সেই শিশু, যার দুধ পান করানোর সময় আমি শেষ করেছি। এখন সে খাবার খেতে পারে।’

তখন শিশুটিকে একজন মুসলিমের দায়িত্বে দেওয়া হলো। এরপর ওই নারীর ওপর শরয়ি হদ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তাঁর জন্য গর্ত খনন করা হলো এবং শাস্তি কার্যকর করা হলো।

এ সময় খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রা.) একটি পাথর নিক্ষেপ করলে তা ওই নারীর মাথায় আঘাত করে এবং তাঁর রক্ত খালিদ (রা.)-এর মুখে ছিটকে পড়ে। এতে তিনি নারীটিকে একটি কঠোর কথা বলে ফেলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে তাঁকে সতর্ক করে বললেন, ‘থামো, হে খালিদ! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে এমন তাওবা করেছে যে—কোনো অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার নষ্টকারী ব্যক্তিও যদি এমন তাওবা করত, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জানাজা পড়ার নির্দেশ দেন এবং নিজেও তাঁর জানাজা আদায় করেন। পরে তাঁকে দাফন করা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩২৪)

অতএব, গুনাহ যত বড়ই হোক, বান্দা যদি সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের ভুল সংশোধনের জন্য আন্তরিক হয়, তবে আল্লাহর রহমত থেকে তার নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, শরয়ি বিচার ও শাস্তি কার্যকর করা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা জনতার আবেগের বিষয় নয়; তা বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। আর কোনো মানুষের তাওবাকে তুচ্ছ করা বা তার অতীতের গুনাহ নিয়ে তাকে অপমান করাও ইসলামের শিক্ষা নয়। সৌজন্যে কালের কণ্ঠ।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com