জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
এরপর মাইজ তৃতীয়বার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। নবীজি (সা.) আবারও তাঁর গোত্রের লোকদের কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ফিরে যাও। তাকে দুধ পান করাও। দুধ পান করানোর সময় শেষ হলে তারপর এসো।’ নারীটি আবার ফিরে গেলেন। দীর্ঘ সময় পর শিশুর দুধপানের পর্যায় শেষ হলে তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলেন। তখন শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! এই সেই শিশু, যার দুধ পান করানোর সময় আমি শেষ করেছি। এখন সে খাবার খেতে পারে।’
তখন শিশুটিকে একজন মুসলিমের দায়িত্বে দেওয়া হলো। এরপর ওই নারীর ওপর শরয়ি হদ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তাঁর জন্য গর্ত খনন করা হলো এবং শাস্তি কার্যকর করা হলো।
এ সময় খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রা.) একটি পাথর নিক্ষেপ করলে তা ওই নারীর মাথায় আঘাত করে এবং তাঁর রক্ত খালিদ (রা.)-এর মুখে ছিটকে পড়ে। এতে তিনি নারীটিকে একটি কঠোর কথা বলে ফেলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে তাঁকে সতর্ক করে বললেন, ‘থামো, হে খালিদ! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে এমন তাওবা করেছে যে—কোনো অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার নষ্টকারী ব্যক্তিও যদি এমন তাওবা করত, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জানাজা পড়ার নির্দেশ দেন এবং নিজেও তাঁর জানাজা আদায় করেন। পরে তাঁকে দাফন করা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩২৪)
অতএব, গুনাহ যত বড়ই হোক, বান্দা যদি সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের ভুল সংশোধনের জন্য আন্তরিক হয়, তবে আল্লাহর রহমত থেকে তার নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, শরয়ি বিচার ও শাস্তি কার্যকর করা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা জনতার আবেগের বিষয় নয়; তা বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। আর কোনো মানুষের তাওবাকে তুচ্ছ করা বা তার অতীতের গুনাহ নিয়ে তাকে অপমান করাও ইসলামের শিক্ষা নয়। সৌজন্যে কালের কণ্ঠ।