1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা

সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় : আরও কিছু কথা-সুমনকুমার দাশ

  • Update Time : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৩৮ Time View

সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়েছে। এটি পুরোনো তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হওয়ার পরপরই সেদিন সুনামগঞ্জের খবর-এর জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একটি লেখা লিখেছিলাম। পরদিন সেটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বের সঙ্গে ‘মন্তব্য প্রতিবেদন’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক ও ভৌগলিক অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে দু-একটি বিষয় চালু করার ব্যাপারে একান্তই নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেছিলাম। অনেকেই এ লেখাটি পড়ে ব্যক্তিগতভাবে মুঠোফোনে
নিজেদের ভালোলাগা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লেখাটি শেয়ারও করেছেন।
দ্রুততার সঙ্গে তাৎক্ষণিক লেখাটি তৈরি করায় দু-একটি বিষয় উত্থাপন করার সুযোগ ঘটেনি। মূলত মনের সেই খচখচানি দূর করতেই আলোচ্য লেখার অবতারণা। মন্ত্রিসভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পাওয়ার পর গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো সুনামগঞ্জে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আগের লেখায় উল্লেখ করেছি, মূলত পরিকল্পনামন্ত্রীর উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টার কারণেই আমাদের এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্ভব হলো। সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনÑসবই তাঁর আন্তরিকতায় সম্ভবপর হলো। সুনামগঞ্জবাসীও দল-মত নির্বিশেষে এম এ মান্নানের উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টার অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ শহরে যে শোভাযাত্রা হয়েছে, সেটি অনন্যতার দাবি রাখে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকেও সবাই অভিনন্দিত করেছেন। বহুদিন পর সুনামগঞ্জবাসী প্রকৃতই একজন উন্নয়নবান্ধব নেতা পেলেন, এমনটাই অনেকে বলছেন। তাঁরা এও বলছেন, পরিকল্পনামন্ত্রী কথায় নন, কাজে বিশ্বাসী।
তো, যে কথা বলতে চাইছিলাম। অর্থাৎ, আমাদের সুনামগঞ্জ অঞ্চলে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন হতে যাচ্ছে, সেটি বিশেষায়িত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না হলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সিলেট জেলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরেকটি পাবলিক বিদ্যালয় এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এর বাইরে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামের আরেকটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে পাঠদান করা হয়ে থাকে। তাই সুনামগঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি না হয়ে যদি সকল বিষয়ের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকা একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতো, এটি হতো আরও বড় চমক এবং প্রাপ্তি। এখনকার সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রকৌশলভিত্তিক বিষয়ের প্রয়োজন রয়েছে, এটা যেমন সত্য, তেমনি অপরাপর বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শ্রী বরং আরও খানিকটা বাড়ত। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়তো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিজ্ঞান, মানবিক ও বানিজ্য অনুষদের নানা বিষয়ে পাঠদান হবে। তাই আলাদাভাবে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ ট্যাগ না-লাগালেই ব্যক্তিগতভাবে আমি খানিকটা সুখ অনুভব করতাম। এখন আর তা করা সম্ভব কি না, জানি না। তবে মনের খচখচানি দূর করতে নিজের মতটা আপাতত উপস্থাপন করেই রাখি, ‘সুনামগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’Ñএমনটা হলেই বোধহয় ভালো হতো!
দুই
সুনামগঞ্জের কোথায় এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে, এ নিয়েও এখন পুরো জেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও অনেকে এ নিয়ে সরব। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। সবার আবেগের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, এমন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক, যেন সেখানে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুগম হয়। এতে সহজেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অপরাপর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করে নেবে। যেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান হোক, আমাদের জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছেÑএর চেয়ে বড় আনন্দের বিষয় আর কী হতে পারে?
লেখক : লোকসংস্কৃতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।
সূত্র সুনামগঞ্জের খবর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com