স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম অলইতলী ও কাতিয়া মাদরাসার প্রবীণ মুহতামিম, প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম শায়খে কাতিয়া হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.)-এর বড় সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর নামাজে জানাজা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক কাতিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের বিশাল জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মাদরাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তাঁর শেষ বিদায়ের মুহূর্তটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা কাতিয়া অভিমুখে আসতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নজিমু উদ্দিন জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানাজার প্রস্তুতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আমিনী হুজুর কেবল একজন মাদরাসা প্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের এক বটবৃক্ষ ও অভিভাবক। বিশিষ্ট এই আলেমে দ্বীনের আকস্মিক প্রস্থানে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তাঁর জানাজার নামাজে হাজার, হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে, তাই শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে জানাজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহায়তায় এলাকাবাসী ও মাদরাসার পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী, ছাত্র ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেটের আল-হারামাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঐতিহাসিক শায়খে কাতিয়া (রহ.)-এর ইলমি ও আধ্যাত্মিক যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী দীর্ঘদিন ধরে কাতিয়া মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অত্র অঞ্চলের দ্বীনি শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়। তাঁর এই স্থায়ী বিদায়ে পুরো সিলেট বিভাগের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।