স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুরে চাচাতো ভাইদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত নাজিম উদ্দিন (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় ভবেরবাজারে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ মাহফুজুল করীমের সভাপতিত্বে এবং আলফু মিয়া ও বশির আহমদের যৌথ পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন, শেখ ফজর আলী, এমদাদুল হোসেন, প্রভাষক জাহিদ হোসেন, সুজন মিয়া, রাসেল আহমদ, পারভেজ আহমদ, সায়েক আলী, নাদির আহমদ, হোসাইন, সালমান, শামীম আহমদ, সুয়েব, আরমান, সামিউল, রুমান, মিজান, জাবেদ, শাহীন, কাইয়ুম, রকি ও ফুজেল প্রমুখ।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, নাজিম উদ্দিন এলাকায় একজন নম্র, ভদ্র ও শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিয়ের দাওয়াতের মতো তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কায়দায় তাকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো জগন্নাথপুরের মানুষ আজ স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ।
বক্তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম মিয়াসহ হামলায় জড়িত সকল খুনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন জানান,ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিহত নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের ওলিমার দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার সাথে নাজিমের মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে গত শনিবার সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজিমের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের ‘ছুলফি’র আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাজিম উদ্দিন।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূলত জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। বিয়ের দাওয়াতকে কেবল একটি উসিলা হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এই নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।