সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলে মনে করছেন উপজেলাবাসী। গত বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো হওয়ায় আগামিতে আশার আলো দেখছেন অনেকে।
শনিবার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, উপজেলার ১২টি কলেজ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৬শ’ ৪৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৭শ’৭৪ জন। অকৃতকার্য ৮শ ৭১ জন। পাশের হার পাশের হার ৪৭.০৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ এসেছে ৩টি। তবে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়নি কোন শিক্ষার্থী। জগন্নাথপুরের সাতটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩শ’ ২জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১৫৪ জন। ফেল করেছে ১৪৮জন। পাশের হার ৫০.৯৯ শতাংশ। পাশের হারের দিকে দিকে এবার কলেজ থেকে মাদরাসা এগিয়ে রয়েছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১২টি কলেজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ রয়েছে পাটলী উইমেন্স কলেজ। ৪০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসিতে অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ৩৭ জন কৃতকার্য হলেও ৩ জন ফেল করেছে। পাশের হার ৯২.৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে ২২ জন। ১০ জন ফেল করেছে। পাশের হার ৬৮.৭৫ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে আছে ষড়পল্লী স্কুল এন্ড কলেজ। ৬৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৪৩ জন। অকৃতকার্য ২২ জন। জিপিএ-৫ এসেছে একটি মাত্র। পাশের হার ৬৬.৭৫ শতাংশ। চর্তুথ স্থান রয়েছে চন্দন মিয়া সৈয়দুননেছা কলেজ। ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭০ জন। ফেল করেছে ৩৮ জন। পাশের হার ৬৪.৮১ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে রানীগঞ্জ কলেজ। এই কলেজের ১৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭৬ জন এবং ফেল করেছে ৬৬ জন। পাশের হার ৫০.৩৮ শতাংশ। এছাড়াও যথাক্রমে পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ৮২ জনের মধ্যে কৃর্তকার্য হয়েছে ৪০ জন। অকৃতকার্য ৪২ জন। পাশের হার ৪৮.৭৮ শতাংশ, জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজে ৬৩১ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৮১ জন। ফেল করেছে ৩৫৩ জন। জিপিএ-৫ এসেছে ২টি। পাশের হার ৪৪.৫৩। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে ২৯৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১৭ জন। ফেল ১৬৭জন। পাশের হার ৪৩.২০ শতাংশ। পাড়ারগাঁও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ৫২ জনের মধ্যে কৃতকার্য ২২জন। ফেল ৩০ জন। পাশের হার ৪২.৩১ শতাংশ। সৈয়দপুর আদর্শ কলেজে ৯২ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাশ, ফেল ৫৭জন। পাশের হার ৩৮.০৪ শতাংশ। শ্রীরামসী স্কুল এন্ড কলেজে ৪৯ জনের মধ্যে ১৪ জন পাশ, ফেল ৩৫জন। পাশের হার ২৮.৫৭ শতাংশ এবং সর্বনিন্ম ফলাফল করেছে নয়াবন্দর স্কুল এন্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৬জন আর ফেল করেছে ৫১ জন। পাশের হার ২৩.৮৮ শতাংশ।
অপর দিকে উপজেলার সাতটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫.৬১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে হবিবপুর ও কেশবপুর কামিল মাদরাসা। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন পাস করেছে, ফেল ১০, পাসের হার ৭৫.৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলজান্নাত ইসলামিয়া এডুকেশন ট্রাস্ট কামিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৯জনের পাস ৩৮, ফেল ২১জন, পাসের হার ৬৪.৪১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রসুলগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৭ জনের মধ্যে পাস ১৯, ফেল ১৮ জন। পাসের হার ৫১.৩৫ শতাংশ। এছাড়াও সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৭১ জনের মধ্যে পাস ৩৬, ফেল ৩৫ জন, পাসের হার ৫০.৭০ শতাংশ, হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া কামিল মাদরাসায় ৩৬ জনের মধ্যে পাস ১৪, ফেল ২২, পাসের হার ৩৮.৮৯ শতাংশ। রানীগঞ্জ বাজার আলিম মাদরাসায় ২৫ জনের মধ্যে পাস ৮জন, ফেল ১৭জন, পাসের হার ৩২ শতাংশ এবং মাত্র ২৪.২৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলায় সর্বনিম্ন ফলাফল করেছে ইকড়ছই জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা। এই মাদরাসার ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। পাশ করেছে ৮জন।
জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একামেডিক সুপারভাইজার অরূপ রায় বলেন, প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হয়নি। গতবছরের তুলনা কিছুটা ভালো হয়েছে।গতবছর এইচএসসিতে পাশের হার ৩৮.১৮ আর এবার পাশের হার বেড়ে ৪৭.০৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাদরাসায় গত বছরের তুলনায় এবার পাশের হার কমেছে। এবছর হারের হার ৫০.৯৯ এবং গতবছরের পাশের হার ৮২শতাংশ ছিল। আমরা আশা করছি, আগামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো ভালো ফলাফল করবে।