স্টাফ রিপোর্টার::
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় অগ্নিসংযোগ ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় প্রয়াত এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। মৃত্যুর তিন মাস পরও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করায় মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই মামলায় সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগ) দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ এনে জগন্নাথপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। মামলায় জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন সহ আওয়ামী লীগ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। এছাড়াও এই মামলায় এজাহার নামীয় আসামি বাদে অজ্ঞাত নামা আসামি হিসেবে আরো অনেক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার ৫৬ নম্বর আসামি আশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল খয়ের ইসরাইল চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপ—পরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল চলতি বছরের ৩১ জুলাই তদন্তের পর আদালতে এই আলোচিত মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটে প্রয়াত এই ব্যক্তির নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার সময় কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। এর মধ্যে মামলার ৩৫ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মীরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন ইফতি (২৪) বিএনপির কার্যালয় থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ চুরি করে নেন। এছাড়া ২৫ নম্বর আসামি নুর মোহাম্মদ জুয়েল অফিস কক্ষে থাকা ২০ হাজার টাকা দামের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি চুরি করেন।
হামলার সময় ১১ নম্বর আসামি আব্দুস সালাম রিজভি পেট্রোলিয়াম বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্যান্য আসামিরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ দলীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। চার্জশিটভুক্ত ৭৯ জন আসামির মধ্যে এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আসামি আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার উপ পরিদর্শক অনিক পাল বলেন, মামলার বাদীর এজাহার ও স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। মৃত ব্যক্তির নামে অভিযোগপত্রের বিষয়টি জানা নেই। মৃত্যু সনদ পেলে আমরা আদালত কে অবহিত করব।