স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া এলাকায় মিটার ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন ও দোকানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় নির্ধারিত ৩ লাখ ৬১ হাজার ৯৯৮ টাকা জরিমানা পরিশোধ করেছেন অভিযুক্ত ব্যবহারকারী।
গতকাল রোববার ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদ্যুৎ চুরির সুনির্দিষ্ট অপরাধে চিলাউড়া গ্রামের মহসিন আলম মুন্নার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা করা হয়েছিল। গতকাল জরিমানার পুরো টাকা তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছেন। সরকারি রাজস্ব রক্ষায় এবং অপচয় রোধে আমাদের এমন অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ চলমান থাকবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে বিউবো’র একটি দল বিদ্যুতের ১১ কেভি ইকড়ছই ফিডারের চিলাউড়া আমবাড়ী এলাকায় নিয়মিত মিটার পরিদর্শনে যায়। অভিযানকালে তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন আলম মুন্নার মালিকানাধীন ইজিবাইক গ্যারেজে দুটি অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে বসানো মিটার দেখতে পান। প্রকৌশলীরা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেন, মিটার দুটিতে কোনো রিডিং বা ইউনিট না উঠিয়ে মেইন লাইন থেকে সরাসরি হুকিং (বাইপাস) করে ভেতরের বিশাল স্থাপনায় অবাধে বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছিল।
তদন্তে দেখা যায়, এই চুরির সংযোগের মাধ্যমে অভিযুক্ত মুন্না তাঁর ইজিবাইক গ্যারেজের মোট ১১টি ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টে দিনরাত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পাশাপাশি পাশের কয়েকটি বাণিজ্যিক দোকানেও অবৈধ সাব-লাইন দিয়ে আসছিলেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ চুরির কাজে ব্যবহৃত তার ও মালামাল জব্দ করে লাইনটি কেটে দেয় এবং কারিগরি মূল্যায়ন অনুযায়ী ৩ লাখ ৬১ হাজার ৯৯৮ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ জরিমানা নির্ধারণ করে, যা গতকাল ব্যাংকে পরিশোধ করা হলো।