আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)
এই আয়াতগুলো মুমিনকে আশা ও সাহস জোগায়। কারণ আল্লাহ যখন পরীক্ষা দেন, তখন সেই পরীক্ষার মধ্যেই মুক্তির পথও নির্ধারণ করে রাখেন। একজন মুমিন বিশ্বাস করে যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সবই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালার অংশ। তাই সে হারিয়ে যাওয়া বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আফসোস করে না এবং প্রাপ্ত বিষয় নিয়ে অহংকারও করে না। মহানবী (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা কখনো তোমার জন্য নির্ধারিত ছিল না; আর যা তোমার কাছে এসেছে, তা কখনো তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারত না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৫১৬)
মনে রাখতে হবে, আল্লাহ বান্দার শত্রু নন; তিনি পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞ রব। তাই কোনো দরজা বন্ধ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় যে ব্যর্থতাকে আমরা দুর্ভাগ্য মনে করি, সেটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে নিখুঁত ব্যবস্থা। আর এটাই হলো আল্লাহ যেভাবে তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করেন তার এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী বাস্তবতা।
ব্যর্থতার পর একজন মুমিনের করণীয়
ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে একজন মুমিনের উচিত, আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করা। ধৈর্য ও সবরের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। নিজের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করা। নতুনভাবে পরিকল্পনা করে আবার চেষ্টা করা। বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও নফল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়া। অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক উত্তম।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ