এ আয়াতে হালাল ও তায়্যিব—দুটি বিষয় একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্যে প্রতারণা নবীজির আদর্শবিরোধী : খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও প্রতারণা করা একটি জাতি কিংবা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
এই হাদিসে লক্ষণীয় বিষয় এই যে এখানে শুধু খাদ্যে ভেজাল নয়, পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ক্রেতাকে ঠকানোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে। আজকের দিনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার নতুন মোড়কে বিক্রি, পণ্যের উপাদান গোপন কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার—সবই এ হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খাদ্যের পবিত্রতা ইবাদতের সঙ্গেও জড়িত : হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)
এ হাদিস প্রমাণ করে, খাদ্যের পবিত্রতা শুধু দেহের বিষয় নয়, মানুষের আত্মিক জীবন ও ইবাদতের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই খাদ্য যেমন হালাল হতে হবে, খাদ্য কেনা বা সংগ্রহের পদ্ধতি ও অর্থও হালাল হতে হবে।
খাদ্য অপচয় রোধ করতে হবে : খাদ্য মহান আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। খাদ্যের প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশ বীজ থেকে শুরু করে আমাদের পাত পর্যন্ত আসার পেছনে বহু মানুষের শ্রম রয়েছে। খাদ্য অপচয় মহান আল্লাহর নিয়ামতের অবমূল্যায়নের শামিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনি আদম! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো। আর খাও এবং পান করো কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)
মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মুনাফা অর্জন সাময়িক কিছু অর্থকড়ি এনে দিলেও তা মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং সমাজে অন্যায় ছড়িয়ে দেয়। নিরাপদ খাদ্য কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি মানুষের ন্যায্য অধিকার। মানুষের জীবন রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ