1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫

বিরল জীবন বিদায়!

  • Update Time : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৪৩১ Time View

উজ্জ্বল মেহেদী-
‘সুরেশ কাকা মারা গেছেন!’ তটস্থ খলিল এ টুকু বলেই ফোন রেখে দিল। ওপাশে আমি অস্ফুট স্বরে বলছিলাম, বিদায়, বিরল জীবন!
সত্যিই তো, বিরল এক জীবনের অধিকারী ছিলেন আমাদের সুরেশ কাকা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের জীবন্ত সাক্ষী। জীবন নিয়ে ফেরার কথা ছিল না তাঁর। তিনি ফিরেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন ভাটির শার্দুল হয়ে। এমন জীবন কি কেউ পায়? অবশ্যই বিরলতম এক জীবন।
আমরা সংবাদকর্মীরা সুরেশ কাকার বর্ণনা থেকে বুঝে নিতাম ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতা। জীবন্ত সাক্ষী সুরেশ কাকা বলতেন। সেই ১৯৭১ সালের পর থেকে বলাটা শুরু। যুদ্ধ নয়, ওই একটি ঘটনা জীবনে অবিরাম বলে গেছেন। পুরো ঘটনা লিখেও রেখেছিলেন। বলতে বলতে হয়রান হয়তো। মার্চ এলে আরও বেশি বেশি বলা শুরু হতো। তাই তো দেখতাম, শেষ দিকে এসে আর বলাবলি নয়, স্মৃতিচারণামূলক লেখা ধরিয়ে দিতেন। আবার খুব সতর্কও থাকতেন, পাছে কি না আত্মপ্রচার হয়ে যায়!
আমরা সারা বছর বেমালুম ভুলে থাকলেও মার্চ মাস এলে ভুলতাম না সুরেশ কাকাকে। তাই-তো কোনো না কোনোভাবে ২৫ মার্চ এলেই সুরেশ কাকার সান্নিধ্য, দূরে থাকলেও লেখার সঙ্গে যোগাযোগ থাকতোই। গত বছরও হয়েছিল। এবার মানে আগামী ২৫ মার্চ ভাবছিলাম একটু অন্যভাবে সুরেশ কাকাকে নিয়ে কিছু একটা করবো। ‘বিরল জীবন’ বলে অভিহিত করবো। কিন্তু তাঁর আর সুযোগ হলো না। গণহত্যা দেখা সুরেশ কাকার সুমন্ত মন, সেই দুই চোখ, সেই ফিরে পাওয়া জীবন একেবারেই চলে গেল না ফেরার দেশে। চিরজীবনের জন্য হাতছাড়া এখন বিরল জীবনটা।
তারুণ্যে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফেরা সুরেশ কাকার জীবনটা ছিল আক্ষরিক অর্থে বর্ণাঢ্য। কিন্তু এ নিয়ে তাঁর কোনো অহংবোধ ছিল না। তাঁর সময়ের মানুষগুলোর অনেকেই শীর্ষে বিচরণ করছেন। তাঁদের সঙ্গে সুরেশ কাকার ভালো যোগাযোগও ছিল। আমরা টের পেতাম। ওই সব শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা হলে সুনামগঞ্জ বলার আগেই সুরেশ কাকার নাম উচ্চারণ হতো। এত কিছু সুরেশ কাকা চেপে যেতেন। ছাত্রজীবনে যেখানে ছিলেন তিনি, সেখানে সুনামগঞ্জের আর কতজনই বা যেতে পেরেছে? তাই তো নির্দ্বিধায় বলা চলে তিনি বিরল মানুষ।
সুরেশ কাকা শীর্ষ থেকে ছাত্রনেতৃত্ব দিয়ে এসে আবার ফিরেছেন শিকড়ে। ‘হোম সিক’টাই তো নাড়ির টান, পরম দেশাত্মবোধ। গহিন হাওর থেকে রাজধানী আবার হাওর জনপদে ফিরে সাদামাটা জীবনযাপন মুগ্ধ নয়, বিমুগ্ধ হওয়ার মতো। সেই মুগ্ধতা, মগ্নতায় ছেদ পড়ল। আকস্মিক মৃত্যুতে অপার শোক ভর করেছে।
শোক-কাতরতায় সুরেশ কাকার স্বজন, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার আকুল আহবান; যে বিরল জীবন আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিলেও ধরে রাখার প্রয়াস চাই। কালরাতের সাক্ষ্যকে মূর্ত করে রাখতে কিছু একটা করা হোক। হাতে পারে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা কোনো স্থাপনার নামকরণ। যেখানে চিরজাগরূক থাকবে ২৫ মার্চের সেই কালরাতেই নিঃশ্বেষ হতে পারত যে জীবন, সুরেশ কাকার বিরল জীবন।
উজ্জ্বল মেহেদী: প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিবেদক। সৌজন্য ‍সুনামগঞ্জের খবর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com