1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কারো বিপদে আনন্দিত হওয়া ইসলামের শিক্ষা নয় পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুসহ নিহত ২৯ ভারতীয় উপমহাদেশে দেবী দুর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি- প্রতাপ চৌধুরী  ইতালির কথা বলে লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন, টাকায়ও মেলে না মুক্তি সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন জীবনের’ খোঁজে বাড়ি থেকে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী হবিগঞ্জে উদ্ধার মানুষ নিজেই আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে থাকছে ১৪ শতাংশ কোটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে তৃণমূল উন্নয়নে গতি আসছে: মিজান চৌধুরী জগন্নাথপুরে দুই দোকানিকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

  • Update Time : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫
  • ১১৩৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:: পহেলা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় নৌ বন্দর হিসেবে খ্যাত কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে গণহত্যা চালায়। পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পুরো রানীগঞ্জ বাজার। শ্রীরামসি গণহত্যার পরদিন রানীগঞ্জ বাজারে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তান্ডবে দেড় শতাধিক লোক মারা গেলেও হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের এই ধ্বংস যজ্ঞের খবর তৎকালীন সময় বিবিসিতে প্রচারিত হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে। ইতিহাস মতে, ৭১ এর পহেলা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জের সকল ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা, বড় বড় নৌকার মাঝিসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্থানীয় রাজাকার এহিয়া ও রাজ্জাককে দিয়ে খবর পাঠানো হয় বাজারের রাজ্জাক মিয়ার দোকানে আসতে। এসময় কেউ কেউ ভয়ে পালালেও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ঝামেলা এড়ানোর জন্য শতাধিক মানুষ তাদের কথামতো উপস্থিত হন। সকলে জড়ো হবার পর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় শতাধিক মানুষকে। পরে এদের নিয়ে যাওয়া হয় পাশের কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে গুলি করে রক্তে রঞ্জিত করে দেয় কুশিয়ারা নদীকে। প্রথম গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় একাধিকবার লাইনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাণীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করত। বিষটি স্থানীয় কিছু রাজাকাররা পাক হানাদারদের জানিয়ে দেয় এবং পরে কিছু রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি, ব্যাপারী,সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ায় অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডে শতাধিক মানুষ শহীদ হলেও ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক চেষ্টা করেও অন্যদের পরিচয় বের করা যায়নি। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু খালেদ চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় ৩৪জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ছয় জন আহতের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। সেদিনের নির্মম ঘটনায় পা হারানো মজম্মিল আলী আজো ভয়াল সেই দিনের কথা ভূলেননি। ছলছল নয়নে তিনি বলেন, পাকবাহিনী কুশিয়ারা নদীর তীরে দাঁড় করিয়ে দুইবার তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। শেষের গুলি তার পায়ে বিদ্ধ হলেও তিনি কুশিয়ারা নদী সাঁতরিয়ে একটি ঝুলন্ত ল্যাট্রিনের খুঁটিতে ধরে জীবন বাঁচান। পরে তাঁর গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলতে হয়। জীবন সায়েন্সে এসে মজম্মিল আলী আজো সেই যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার দেখতে চান। স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। ২০১০ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার প্রস্তাবে শ্রীরামসি ও রানীগঞ্জ গণহত্যার স্মৃতিসৌধে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই থেকে রানীগঞ্জ গণহত্যার দিবসে প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন সহ কর্মসূচী পালিত হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে রানীগঞ্জ শহীদ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দুপুরে কুশিয়ারা থিয়েটারের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক মঞ্চস্থ হবে। বিকালে রানীগঞ্জ সাধারণ রিসোর্স সেন্টার ও শহীদ স্মৃতি পাঠাগারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় শহীদ গাজী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচীতে সকলকে উপস্থিত থাকতে শহীদ গাজী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আকমল আহ্বান জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com