1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা সুনামগঞ্জে ডোবায় মাছ ধরা নিয়ে চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় এক ব্যক্তিরমৃত্যু সিলেটে রাষ্ট্রপতি:আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই প্রধান কাজ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড মরণোত্তর দেহদান করে প্রশংসায় ভাসছেন জগন্নাথপুরের যুবক লিটন দাশ বানিয়াচংয়ে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০ মদিনায় ১১ কোটি টন দুর্লভ খনিজ-ইউরেনিয়ামের সন্ধান পেল সৌদি আরব ডিএমপির কড়া বার্তা:আ.লীগের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে দায় নিতে হবে ওসি-ডিসিকে কোরআনের বর্ণনায় অন্তরের সুস্থতা ও অসুস্থতা ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আগুন, পদদলিত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু

৩১ বছরের সাম্রাজ্যের পতন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ৩৭২ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: তিনি ছিলেন এক ভিন্ন রাজ্যের রাজা। চালচলনে ছিল ভিআইপি ভাব। সামনে-পেছনে ফিল্মি স্টাইলে সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করতেন। নিরাপত্তায় ছিল ১১ জন সশস্ত্র দেহরক্ষী। নিজের নামে ২টি অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও অনুসারীদের নামে ছিল বাকি অস্ত্রের লাইসেন্স। সেগুলোও ব্যবহৃত হতো তার নিরাপত্তায়। থানা পুলিশ ছিল তার হাতে মুঠোয়। ‘৮৬ সালে ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। গতকাল সোমবার ৭ খুনের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ইশারাতেই নিয়ন্ত্রত হতো সিদ্ধিরগঞ্জের অপরাধ জগৎ। গত ৩১ বছর দাপটের সঙ্গেই সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করেছেন নূর হোসেন ও তার বাহিনী। ৭ খুনের ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতেন সিদ্ধিরগঞ্জের সাম্রাজ্য। এমনকি ভারতে গ্রেফতারের পরও তার নিয়ন্ত্রণেই ছিল সবকিছু। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনার পরও সিদ্ধিরগঞ্জের সব কিছুতেই ছিল নূর হোসেনের নিরবচ্ছিন্ন প্রভাব। তবে গতকাল রায় ঘোষণার পর সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের বাহিনীর সদস্যদের আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

যেভাবে উত্থান: সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত হাজী বদরউদ্দিনের ৬ ছেলের মধ্যে তৃতীয় নূর হোসেন। ১৯৮৬ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ইকবাল গ্রুপের ট্রাকের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নূর হোসেন। ১৯৮৮ সালের দিকে শিমরাইলে আন্তঃজেলা ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম চালু করেন দাইমুদ্দিন নামে এক ট্রাক ড্রাইভার। ১৯৮৯ সালের দিকে দাইমুদ্দিনকে বের করে দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস দখলে নেন নূর হোসেন। যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ১৯৯১ সালে যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে (নিহত নজরুলের শ্বশুর) পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলামকে (নিহত) পরাজিত করে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। শুরু হয় নূর হোসেন চেয়ারম্যানের ডন হয়ে ওঠার পালা।

১৯৯৭ সালের শেষের দিকে সন্ত্রাসী নূর হোসেন তার বাহিনী নিয়ে শিমরাইলের সওজ অফিসে হামলা চালিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিনের রুম দখল করে নেন। এর কিছুদিন পর সানারপাড় এলাকার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নূর হোসেনের সঙ্গে ডাকাত লাইমুদ্দিন বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ ঘটনার ১০ দিনের মাথায় লাইমুদ্দিন খুন হয়। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী একাধিকবার নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত নূর হোসেন ও তার বাহিনীর কব্জায় ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ। শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই ছিল তার হাতে। শুধু তাই নয়, কাঁচপুর সেতুর নিচে বালু, পাথরের ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করত নূর হোসেনের বাহিনী।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে বসবাস শুরু করেন নূর হোসেন। সেখানে বসেই তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে তার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে। ২০১১ সালের মার্চে ইন্টারপোল সে ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল ও ‘৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন নূর হোসেন। ওই সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে কাজ না করার অভিযোগে ২০০২ সালের ২৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় সে সময়ে পৃথক ৩টি মামলা হয়েছিল। বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সে সময়ের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে পৃথকভাবে মামলাগুলো দায়ের করেন। পৃথক ৩ মামলায় ৪ লাখ ৫০ হাজার, ৫ লাখ ও ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে। মামলাটি দীর্ঘদিন চলার পর সম্প্রতি এ ব্যাপারে আদালতে চার্জশিট দেয় দুদক। ৩টি মামলাতেই তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর হোসেনকে অভিযুক্ত করেন।
সুত্র -সমকাল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com