জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর কালনীরচর গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা চেয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা মো. শিবরুল আমীন ও মোবারক হুসেন মেন্দী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা অভিযোগ করেন, লন্ডনপ্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়ার মদদ ও অর্থায়নে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হয়রানি করে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও অনেকে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রামের একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রামের প্রভাবশালী ও লন্ডনপ্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়া ও তাঁর অনুসারীরা মসজিদ নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে শুরু থেকেই বাধা দিয়ে আসছিলেন। পরে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় কিছু শর্তে বিরোধের মীমাংসা হলে মসজিদের কাজ আবার শুরু হয়।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ মার্চ প্রথম রমজানের রাতে মসজিদের অজুখানা নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং সেপটিক ট্যাংক ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এ সময় গ্রামের মুরব্বিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ নির্মাণকাজের পক্ষে অবস্থান নেন। এর জেরে আবদুল হক চানু মিয়ার মদদ ও অর্থায়নে ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়া, সইল মিয়া, রুহেল মিয়া, কসরু মিয়া, সিজিল, হুসেন, খলকু মিতন ও হালিমসহ একদল লোক কালনীরচর বাজারে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুই দিন সময় চাইলেও তা উপেক্ষা করে আবারও ভাঙচুর করা হয় বলে তাঁদের দাবি। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একই বছরের ৩১ মে মসজিদকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন। ওই রাতেই বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওসমানীনগরের রেনু বেগম, হান্না বেগম, জুনাইদ মিয়া, আকাইদ মিয়া, ছালেহা বেগম, আক্তার মিয়া, লন্ডনপ্রবাসী বশির মিয়া, দুদু মিয়া, মত্তচির মিয়া, ফ্রান্সপ্রবাসী উবায়েদ মিয়া, লন্ডনপ্রবাসী আলফু মিয়া, বিলাল মিয়া ও তাঁর ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া জগন্নাথপুরের আব্দুল করিম, রুসনা বেগম, বাবুল মিয়া, বাদল মিয়া, গনি ও আব্দুর রবসহ অন্যদের বাড়িঘরেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, ঘটনার রাতে ওসমানীনগর থানায় একাধিকবার সহায়তা চেয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তাঁদের দাবি, এক পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হলেও তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কালনীরচরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, গ্রামছাড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানো, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পুনরায় চালু করা এবং দখল হওয়া বাড়ি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়া ও আবদুল হক চানু মিয়াসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। সূত্র-জালালাবাদ