জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
১. ‘হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!’
কিয়ামতের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে অবিশ্বাসী ব্যক্তি এমন আফসোস করবে যে, সে যদি মাটিই হয়ে যেত! আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর কাফির বলবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৪০)
২. ‘হায়! আমি যদি আখিরাতের জন্য কিছু করতাম!’
মৃত্যুর পর মানুষ সবচেয়ে বড় যে সত্যটি উপলব্ধি করবে, তা হলো—দুনিয়ার জীবন ছিল আখিরাতের প্রস্তুতির সময়।
মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ ফিরে আসার আকুতি জানাবে। কোরআনের ভাষায়, ‘হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯–১০০)
৪. ‘হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাতাম!’
মানুষের জীবনে বন্ধুত্বের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। ভালো বন্ধু মানুষকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়, আর অসৎ সঙ্গী তাকে ধীরে ধীরে গুনাহের পথে ঠেলে দিতে পারে। কিয়ামতের দিন একজন আফসোস করে বলবে, ‘হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম!’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৮)
পরের আয়াতে তার আফসোসের কারণও বলা হয়েছে, ‘আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছিল।
কিয়ামতের দিন অবাধ্য মানুষ উপলব্ধি করবে—আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার মধ্যে কোনো প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল না; বরং সেটিই ছিল তার ধ্বংসের কারণ। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন আগুনে তাদের মুখমণ্ডল উল্টেপাল্টে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসুলের আনুগত্য করতাম!’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬৬)
৬. ‘হায়! আমি যদি রাসুলের পথ অনুসরণ করতাম!’
কিয়ামতের দিন শুধু আল্লাহর আনুগত্য না করার জন্যই নয়, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দেখানো পথ থেকে দূরে থাকার জন্যও মানুষ আফসোস করবে। আল্লাহ বলেন, ‘হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে একটি পথ অবলম্বন করতাম!’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭)
৭. ‘হায়! আমি যদি আমার রবের সঙ্গে কাউকে শরিক না করতাম!’
মানুষের সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ হলো আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা। দুনিয়ায় কেউ যদি শিরকের ভয়াবহতা উপলব্ধি না করে, আখিরাতে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।’ (সুরা লুকমান, ৩১:১৩)
আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি যদি শিরক করো, তবে অবশ্যই তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬৫) সৌজন্যে কালের কণ্ঠ।