স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (চন্ডি হেদায়েতপুর) দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে একই গ্রামের আছির উল্লাহর ছেলে আবুল কাশেমের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরই জেরে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আলমগীরের পক্ষের কৃষক মতিউর রহমান প্রতিপক্ষের ছুলফির আঘাতে বুকে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মতিউরকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মতিউর রহমানের পক্ষের মুজিবুর (৩৮) ও আতাউর (৫০) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমান মারা যান। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে তাৎক্ষনিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।