1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা লুদরপুরে নাজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ড, মাছুমকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নামে হত্যা মামলা রানীগঞ্জ জগন্নাথ জিউর আখড়ায় আজ থেকে  শুরু সপ্তাহব্যাপী শ্রীমদ্ভাগবত জ্ঞানযজ্ঞ অনুষ্ঠান  ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল, আটকে যাচ্ছে ডিভি লটারি চালুর আদেশ? সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের চেষ্টা করছি: তথ্যমন্ত্রী তাহিরপুরে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩০ আল্লাহ ব্যতীত কারো মুখাপেক্ষী হওয়া কাম্য নয় জগন্নাথপুরের রাজু এবার বিশ্বমঞ্চে: অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে আজারবাইজান যাত্রা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে জগন্নাথপুরে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব যুক্তরাষ্ট্রে ফের ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর

নবীগঞ্জে বেঙ্গির মার এক ডিমের মসজিদ !

  • Update Time : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫
  • ৪৭৭ Time View

রাকিল হোসেন:: লোক মুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক মহিলা। ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ প্রবাদ বাক্যটি যেমন সত্য তেমনি লক্ষ্য যদি থাকে আপনার অটুট একদিন সফলতা আসবেই। কবি গুরু রবিদ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ‘ছোট ছোট বালু কণা/ বিন্দু বিন্দু জল/গড়ে তুলে মাহাদেশ/ সাগর অতল। এই কবিতাটুকু পড়লে মনে হয়। কবিগুরু কোন বাস্তব ঘটনা থেকেই কবিতাটি রচনা করেছিলেন। তেমনি আচার্য্য জনক এক ঘটনা ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এক মহিলা। তাকে সবাই বেঙ্গির মা বলে ডাকলে ও একটি মহৎ উদ্দ্যোগ নিয়ে এক এন্ডা (ডিম) গড়ে তুলেছেন একটি মসজিদ। এলাকাবাসী নাম দিয়েছেন এক এন্ডার মসজিদ। মসজিদটির নাম এখন সবার মুখে। এক এন্ডা থেকে কিভাবে এক মসজিদ সে কথা শুনলে সবাই অবাক হন। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, মানুষ সাধনা করে আকাশে উড়েছে পৌঁছেছে চাঁদের দেশে। তেমনি এক বেঙ্গির মা বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছে এক ইতিহাস।
জানা যায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাথগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের তৎকালীন জমিদার সরফ উল্যার বংশধর বেঙ্গির মা ১৯০২ ইং, ১৩০৭ বাংলায় প্রজাতপুর ও লালপুর দুটি গ্রামের মাধ্যবর্তী স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের শেষে এলাকাবাসীকে জড়িত করে মসজিদটির নামকরণ করেন ‘এক এন্ডা (ডিম)র মসজিদ’। তখন মসজিদের নামকরণ নিয়ে জনতার মধ্যে প্রশ্ন জাগলে তিনি ঘটনাটি খুলে বলেন। বেঙ্গির মা এলাকাবাসীকে জানান তিনি একটি মুরগীর ডিম মসজিদের নামে মান্যত করে রাখেন। ঐ ডিমটি থেকে মুরগীর উতলে দিলে তা থেকে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ঐ বাচ্চাটি বড় হলে তা থেকে আরো ৭টি ডিম হয়। পরবর্তীতে ঐ ৭টি ডিম থেকে ৭টি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে এক পর্যায়ে মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেন। ঐ খামাড়ের মুরগী বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এক লক্ষ টাকা জমা করে মসজিদটি তার স্বামীর মাধ্যমে নির্মাণ করে দেন। বেঙ্গির মা ছিলেন নিঃসন্তান। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মসজিদটির নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মসজিদ নির্মাণের শত বছর অতিবাহিত হলেও এখন এ কাহিনী সবার মুখে মুখে। অনেকই মনে করেন একটি এন্ডা (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা ইতিহাসে এই প্রথম। তাও আবার একজন মহিলা কর্তৃক মসজিদ নির্মাণ সবাইকে অবাক করেছে। প্রজাতপুর ও লালপুর গ্রামবাসী ২০০৯ সালে মসজিদটির বর্ধিত অংশ সংস্কার করেছেন। । এক এন্ডা (ডিম) এর মসজিদের খতিব মাওলানা আলমাছ উদ্দিন বলেন আমি মসজিদ নির্মাণে বেঙ্গির মার এক এন্ডার গল্প শুনে অবাক হয়েছি ইচ্ছা থাকলে মানুষ কিনা করতে পারে। তার ছেলে সন্তান না থাকলেও এই মসজিদটি পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন স্বাক্ষী হয়ে রবে । বর্তমানে এলাকাবাসী কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে মসজিদের সুন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য সংস্কার করেছেন। প্রজাতপুর গ্রামের প্রবীণ আব্দুল হক বলেন আমাদের গ্রামের বেঙ্গির মা এমন একটি কাজ করেছেন, যা সারাজীবনেও ভুলার মত নয়। আমি বেঙ্গির মার কাছথেকে শুনেছিলাম তিনি একটি ডিম থেকে একটি মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেছিলেন। ঐ খামাড়ের একটি টাকাও তার সংসারের কাজে ব্যয় করেন নি। সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষটি (বেঙ্গির মা) মরে গেলেও এখনও সবাই তার কথা আলোচনা করে। এটা বিশ্বের নজীর হয়ে থাকবে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন বাংলাদেশে কেন বিশ্বের কোথাও এক এন্ডা (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা আমি কখনও শুনিনি। আমার জানা মতে পৃথিবীতে এই প্রথম আমাদের গ্রামের এক এন্ডা থেকে মসজিদ হয়েছে। মসজিদ কমিটির একাধিক সদস্যের মতে বেঙ্গির মার এক এন্ডার মসজিদটি পর্যটকদের জন্য একটি আচার্য্যজনক স্থাপত্য হিসাবে সরকার রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব নেবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com