1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিপদ কেন আসে, এটি মানুষের পাপের ফল নাকি আল্লাহর পরীক্ষা? জগন্নাথপুরে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর, কেটে দেওয়া হলো চুল নয়াবন্দর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত এডহক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়ক যেন লুটপাটের রাজত্ব, ৪৮ কোটি টাকার সংস্কার ৩ বছরেই নাজুক  পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম সুনামগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নতুন কমিটিতে আরতি- বিমল দায়িত্ব পেলেন   পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর মিললো বস্তাবন্দি শিশুর টুকরো মরদেহ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশ জুয়ার আসর থেকে কারাগারে চার পুলিশ সদস্য ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো

বিপদ কেন আসে, এটি মানুষের পাপের ফল নাকি আল্লাহর পরীক্ষা?

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ০ Time View

মানুষের জীবন এক বহমান নদী। জোয়ার-ভাটার মতো এখানে সুখ এবং দুঃখের পর্যায়ক্রমিক আগমন ঘটে। তবে যখনই কোনো বিপদ বা মুসিবত আমাদের স্পর্শ করে, তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, এই বিপদ কেন এলো? এটি কি আমার কোনো পাপের শাস্তি, নাকি আল্লাহ আমাকে কোনো বড় পরীক্ষার মুখোমুখি করেছেন? এই প্রশ্নটি যেমন আধ্যাত্মিক, তেমনি প্রাত্যহিক জীবনের এক বড় জিজ্ঞাসা।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত আলোচনাটি কালবেলার সৌজন্যে জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমকের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বিপদের ভিন্ন ভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, মানুষের ওপর যে বিপদ-আপদ আসে তা মূলত তাদের নিজেদের কৃতকর্মেরই ফসল। অন্যদিকে, অপর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ কখনো ভয়, ক্ষুধা বা জান-মালের ক্ষতির মাধ্যমে ঈমানদারদের পরীক্ষা করেন। (সুরা আর-রূম: ৪১ ও সুরা বাক্কারা: ১৫৫)

এখানেই সাধারণ মানুষের মনে সংশয় দেখা দেয়, কীভাবে বুঝব কোনটি আমার কর্মের ফল আর কোনটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা? প্রকৃত সত্য এই যে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিপদকে নিশ্চিতভাবে ‘আজাব’ বা ‘পরীক্ষা’ হিসেবে চিহ্নিত করার উপায় নেই। একমাত্র নবী-রাসুলরা ওহির মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারতেন যে, কোনো বিশেষ ঘটনা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি নাকি পরীক্ষা।

বিপদে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত?

যেহেতু আমরা নিশ্চিতভাবে বিপদের কারণ জানি না, তাই যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমাদের দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণ করা উচিত।

১. তওবা ও ইস্তেগফার: প্রতিটি বিপদকে নিজের কোনো বদ আমল বা ত্রুটির ফল হতে পারে ভেবে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

২. অটল থাকা ও ধৈর্য: প্রতিটি বিপদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করে তাতে অটল থাকার চেষ্টা করতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখা জরুরি।

অন্যের বিপদ নিয়ে মন্তব্য করার ঝুঁকি

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত প্রবণতা হলো কারো ওপর বিপদ এলে মানুষ বলাবলি করে, ‘লোকটা নিশ্চয়ই খুব খারাপ, তাই আল্লাহর গজব নেমেছে।’ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত গর্হিত। কোনো বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি হিসেবে এসেছে নাকি পরীক্ষা হিসেবে, তা কোনো মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। নবী-রাসূলদের ছাড়া কারো কাছে ওহী আসে না, তাই অন্যের বিপদ দেখে তাকে ‘পাপিষ্ঠ’ ঘোষণা করার অধিকার আমাদের নেই।

ভুল বিশ্বাসের চোরাবালি

বিপদ থেকে মুক্তির আশায় অনেকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী পথে সমাধান খোঁজেন। বিপদে পড়লে মাজারের দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলে দেওয়া আমাদের দেশের একটি সাধারণ চিত্র। অথচ শাহজালাল (রহ.)-এর মতো ওলি-আউলিয়ারা কখনও বলেননি যে তাঁদের কবরের পাশে টাকা দিলে বিপদ দূর হবে। বিপদ দূর করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। অথচ দেখা যায়, বহু মসজিদ-মাদরাসা এবং অভাবী মানুষ অর্থের অভাবে কষ্ট পেলেও মানুষ ভুল আশায় মাজারে কোটি কোটি টাকা ঢেলে দিচ্ছে, যা মূলত এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কথা

বিপদ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের পাপ মোচনের উপলক্ষ হতে পারে, তেমনি হতে পারে আমাদের ঈমানের পরিপক্বতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। তাই বিপদ দেখে বিচলিত না হয়ে আমাদের উচিত আল্লাহর দরবারে ইস্তেগফার করা এবং ধৈর্য ধারণ করা। অন্যের বিপদে সমালোচনা না করে সহমর্মী হওয়া এবং ইসলামের সঠিক পথে সমাধানের চেষ্টা করাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com