1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫, চিকিৎসক হতে চান অমি ভয়াবহ লোডশেডিং: ‘নিদ্রাহীন রাত’ কাটলো জগন্নাথপুরবাসীর দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করলো পাষণ্ড বাবা জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির পূনাঙ্গ কমিটি অনুমোদন সিলেট স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে তেলের দাম সিলেটে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ আটক স্বামী জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ 

বিপ্লবী চে-গুয়েভারার জন্মদিন আজ

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬
  • ৬৭৮ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক:;
আর্নেস্টো চে-গুয়েভারাকে নিয়ে লেখা হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় শত শত বই। ষাটের দশক থেকে এখন পর্যন্ত সারা দুনিয়ার নিপীড়িত-নির্যাতিত সংগ্রামী মানুষের অধিকার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হিসেবে তরুণদের সামনে যার ছবি ভেসে ওঠে তিনি চে-গুয়েভারা। কিশোর বয়সে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন নিজ দেশ আর্জেন্টিনার আনাচে-কানাচে। ডাক্তারী পড়া শেষ করে এক বন্ধুকে নিয়ে বের হন ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে। চে-গুয়েভারা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়তেন। হতে চেয়েছিলেন কবি। তাঁর প্রিয় কবি ছিলেন পাবলো নেরুদা। চে’র বাবার সংগ্রহে প্রায় ৩০ হাজার বই ছিল বাড়িতে। দুনিয়া সম্পর্কে তাই বাড়ি থেকে শিক্ষাগ্রহণ। ছোটবেলা থেকে অ্যাজমা শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। সারাজীবন ভুগতে হয়েছে এই রোগে। চে-গেরিলা যুদ্ধের সময়ও কাঁধে অস্ত্রের সাথে সাথে বইয়ের বোঝা বয়ে বেড়াতেন।
চে সময় সুযোগ পেলেই বই পড়তেন। পৃথিবীর এই সেরা গেরিলা নেতা চারটি বই লিখেছেন। ‘মটরসাইকেল ডায়েরি’ (ভ্রমণ), ‘ডাক দিয়ে যাই’ (কিউবা বিপ্লবের কথা ও তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন), ‘বলিভিয়ার ডায়েরি’ (বলিভিয়ার গেরিলা যুদ্ধ চলাকালীন প্রতিদিনকার কথা) গেরিলা যুদ্ধ (কিউবা বিপ্লবের সময় সিয়েরে, মায়েস্তার পথ ধরে ৩ বছরের নিজের গেরিলা কৌশল ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা)। চে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও কবিতা লিখেছেন।
চে-গুয়েভারার লেখা চারটি বই পঞ্চাশের দশকে থেকে ষাটের দশক পর্যন্ত ল্যাটিন আমেরিকার রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক দলিল। চের বাবা প্রগতিশীল বিস্তার মানুষ ছিলেন ধর্মীয় গোঁড়ামি পছন্দ করতেন না। আর মা ছিলেন মার্ক্সসবাদী আন্দোলনের নেত্রী। আর্জেন্টান মার্ক্সসবাদী বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিকদের সাথে ছোটবেলাই পরিচয় চে-গুয়েভারার। এই পরিচয়ই মনের অজান্তে তার লেখায় প্রভাব ফেলে। সমাজের ভেতরের ছোট ছোট ঘটনা প্রতিদিনিকার, নোট বুকে তুলে ধরে চে আসলে লিখে যান তাঁর সময়ের সংগ্রামের অগ্নিঝড়া ইতিহাস। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না এই ইতিহাসের কথা। সন তারিখ ছড়াই লিখে যাওয়া ‘মটরসাইকেল ডায়েরি’ পড়ে আমরা বুঝে নেই পঞ্চাশের দশকের ল্যাটিন আমেরিকার সমাজ, তার ভেতরের ক্ষত, সংগ্রাম। ঐ জনপদের খনির শ্রমিক ও কৃষকদের বেদনার কথা। কৌশোর পেরিয়ে সদ্য যৌবনে প্রবেশ করা। দুই তরুণের ল্যাটিন আমেরিকা ঘুরে বেড়ানো ভ্রমণ কাহিনী যেমন দুঃসাহসী, তেমনি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে চলা বিচিত্র পেশার অধিকারী আর্নেস্টো চে-গুয়েভার প্রথম বই ‘মটরসাইকেল ডায়েরি’ ল্যাটিন আমেরিকার সামাজিক ইতিহাস।
che-2মটরসাইকেল ডায়েরি
চে লেখেন ‘খনির লালচুলো, কর্মঠ আর বদরাগী কর্তারা প্রায় আদিম স্প্যানিশে আমাদের বলল, এটা বেড়াবার জাগা নয়। একজন গাইড দিচ্ছি, তোমাদের আধ ঘণ্টা ঘুরিয়ে দেবে খনিতে, তারপর দয়া করে ভদ্রভাবে কেটে পড়ো, বহু কাজ আছে আমাদের।’ সামনেই তখন একটা ধর্মঘট আসন্ন। তবু গাইড ইয়াঙ্কি কর্তাদের বিশ্বাসী কুত্তা হলেও বলল : নির্বোধ এ গ্রিংগোগুলো ধর্মঘট হলে প্রত্যেক দিন ওদের হাজার হাজার টাকা ক্ষতি হয় তবুও একটা গরিব মজুরদের কয়েকটা বাড়তি টাকা দিতে নারাজ ওরা। আমাদের জেনারেল ইবানেজ ক্ষমতায় এসে গেলে সব বন্ধ হয়ে যাবে। একজন ফোরম্যান কবি ভারী আন্তরিকভাবে বলল, বিখ্যাত এই খনি থেকে আমার প্রতিটি টুকরো উদ্ধার করা যায়। তোমাদের মতো পর্যটকরা আমায় হাজারটা যান্ত্রিক খুঁটিনাটি নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না কতগুলা প্রাণ গেছে এর দাম দিতে। উত্তরটা আমার জানা নেই ডাক্তার, তবে তোমাদের ধন্যবাদ প্রশ্নটা করেছ বলে।’
প্রকাণ্ড খনিটাতে পাশাপাশি চলতে থাকে শীতল যান্ত্রিক দক্ষতা আর অক্ষম ক্ষোভের স্রোত; পারস্পরিক ঘৃণা সত্ত্বেও টিকে থাকার সর্বজনীন প্রযোজনে আর স্বপ্ন দেখে চলার ফলে রহস্যময়ভাবে যুক্ত থেকে যায় স্রোত দুটি… হয়তা কোনো একদিন কোনো এক শ্রমিক হাসিমুখেই কাজ করতে রকতে ফুসফুসে ঢুকিয়ে নিতে থাকবে বিষ। দুনিয়া ধাঁধানো লাল ধাতুটা যেখান থেকে আসে সেখানে নাকি ব্যাপারটা ওইরকমই চলে। তাই ওরা বলে, জানি না ঠিক কিনা।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com