1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
যৌবন আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময় কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শতভাগ পাশ নেই জগন্নাথপুরে মা-বাবার মতো শিক্ষক হতে চায় এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের জেরিন রাধারমণের ১১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতিসভা জগন্নাথপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন দুই হাতেই নেই, পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেলেন রফিকুল এইচএসসিতে টানা ৪র্থ বারের মতো শীর্ষে পাটলী উইমেন্স কলেজ

মগজহীন শিশু !

  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৪৯১ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমডেস্ক :: জন্মের পর আর পাঁচটা শিশুর মতোই স্বাভাবিক ছিল রোহিত। কিন্তু দু’মাস পর থেকে হঠাত্‍ই বড় হতে থাকে রোহিতের মাথা। কিছুই বুঝতে পারছিলেন না রোহিতের বাবা-মা। বহু ছোটাছুটির পর জানতে পারলেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সে। রোহিতের মাথায় মগজটাই নেই! বিস্ময়কর সৃষ্টি বিধাতার। বরলের মধ্যে এই ঘটনা বিরলতম বলে মনে করছে চিকিত্‍সক মহল। এখন সেই মগজহীন শিশুকেই বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় নেমেছেন রোহিতের বাবা-মা।

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা চঞ্চল বিশ্বাস ও সোমা বিশ্বাস ছেলে রোহিত। বর্তমানে এক বছর বয়স। মাথাটা বড় হতে শুরু করায় স্থানীয় চিকিত্‍সকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।
এরপর বিসি রায় হাসপাতাল ও পরে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে গিয়ে বিশ্বাস দম্পতি জানতে পারেন ছেলের এই দুরারোগ্য রোগের ব্যাপারে। চিকিত্‍সকদের কথায়, রোহিতের মাথায় মস্তিষ্কই নেই, রয়েছে শুধুই জল। যা কিনা বিরলঘটনা বলে মনে করেন চিকিত্‍সকরা।

চিকিত্‍সকদের মতে, মস্তিষ্ক ছাড়া এই ধরনের রোগীদের ‘হাইড্রেনসিফেলি’ বলা হয়। গোটা বিশ্বে মস্তিষ্কহীন এই ধরনের শিশুর সংখ্যা মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। এই ধরনের শিশুরা বাঁচে খুব খুব অল্প সময়ের জন্য। মায়ের গর্ভে ফোলিক অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকার জন্য এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় সঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া না করা ও অল্প বয়সে গর্ভধারণ করার ফলে এই সমস্যা দেখা দেয় শিশুর।

চিকিত্‍সকদের কথায়, মস্তিষ্ক ছাড়া কোনও মানুষ বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে না। শুধুমাত্র লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের সাহায্যে বেঁচে থাকা সম্ভব। এ দেশে এখন পর্যন্ত ৪ জন মস্তিষ্কহীন শিশু জন্মেছে। মায়ের গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন এই রোগের চিকিত্‍সা করা সম্ভব হলেও, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এই রোগের চিকিত্‍সা এখনও অনাবিষ্কৃত।

রোহিতের মা সোমাদেবী জানান, সিজার করে রোহিতের জন্ম। এরপর কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। রোহিত সুস্থই ছিল। খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিকভাবেই করছিল সে। রয়েছে তাঁর। দু’মাস বয়স থেকে হঠাত্‍ই রোহিতের মাথাটা ক্রমশ বড় হতে শুরু করে। অশোকনগরের কয়েকজন চিকিত্‍সদের প্রথম দেখানো হয়। চিকিত্‍সকরা সুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সুস্থ না হওয়ায় তাঁকে বি.সি রায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান সহ বেশ কিছু পরীক্ষা করানোর পর চিকিত্‍সকরা রোহিতকে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সে পাঠান। সেখানের চিকিত্‍সকরা জানান রোহিতের মস্তিষ্ক নেই। রয়েছে শুধুই জল। সুতরাং অস্ত্রোপচার করে কোনও ফল হবে না। তাই যেক’টা দিন বেঁচে থাকবে, এই ভাবেই থাকতে হবে তাকে।

রোহিতের বাবা চঞ্চলবাবু জানান, রোহিতের মাথা বড় ছাড়া সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। খাওয়া দাওয়া, হাসি- কান্না কোথাও কোনও সমস্যা ছিল না। আর পাঁচটা শিশুদের মতোই ছিল রোহিত। এমনকী রোহিত বলে ডাকলেও সে ঘুরে তাকায়। শুধু মাথাটি বড় হওয়ার কারণে সে দাঁড়াতে পারে না।
চঞ্চল ও সোমার একমাত্র সন্তান রোহিত। তাকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দু’জনেই। জানেন তাঁরা এই অসম লড়াই তাঁরা কীভাবে জিতবেন। টাকার অভাব রয়েছে, কিন্তু ছেলের চিকিত্‍সার জন্য শেষ শ্বাসটুকু লড়তে রাজি ওই বিশ্বাস দম্পতি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com