1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫

মাতৃভাষায় ভাব প্রকাশ আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত

  • Update Time : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৫৭০ Time View

আমরা বাঙালি। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আজ আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে রক্ত দিয়েছি। মাতৃভাষার জন্য রক্ত এবং জীবন দেয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে সত্যিই বিরল!

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,বর্তমান বিশ্বে ভাষার সংখ্যা ২৭৯৬ টি। তার মধ্যে বাংলা অন্যতম। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার মধ্যে বাংলার স্থান চতুর্থ। কারো কারো মতে সপ্তম। ১২০৩ সালে তুর্কিবীর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, রোজ- বৃহস্পতিবার। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য অনেকেই শহীদ হয়েছিল। সেই ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর রাখতে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডায় বসবাসরত দু’জন বাঙালি – আব্দুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তারাই ১৯৯৮ সালে ৯ই জানুয়ারি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে একটি আবেদন পত্র পাঠান।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। অতঃপর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ৩১তম প্যারিস অধিবেশনে ২৮ টি দেশের সমর্থনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২০০০ সালে। আর জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৮৮ টি দেশে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর তাৎপর্য উপলব্ধি করে ভাষা বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘আমি মুগ্ধ,আমি প্রীত,আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার প্রাণের কথা আমার ভাষায় জানাতে পারব বলে! আমার হৃদয়ে স্পন্দন বেড়েছে। সত্যিই আমি গর্বিত। ’

সত্যিই আজ আমরা গর্বিত আমাদের মাতৃভাষার জন্য। মাতৃভাষা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য-অগণিত নিয়ামতরাজির মধ্যে অন্যতম। মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেটাই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর ভাব প্রকাশের জন্যে রয়েছে স্বতন্ত্র্য ভাষা। এ যেন সৃষ্টি জীবের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার এক অসীম করুণা! মহান নেয়ামত!

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- করুণাময় আল্লাহ! শিক্ষা দিয়েছেন আল কোরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। আর তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন (সূরা আর- রাহমান :১-৪)।

মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে সব নবী-রাসূলকে স্বজাতির ভাষা ভাষী করে পাঠিয়েছেন। তারা তাদের জাতিকে মাতৃভাষার মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোনো নবী-রাসূলকে তার মাতৃভাষা ছাড়া পাঠাননি (মুসনাদে আহমদ হাদিস নং:২০৪৪)।

আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী(র) তার ইতকান ফি উলুমিল কুরআন গ্রন্থে বলেন- আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে যেমন তাদের স্বজাতির ভাষা ভাষী করে প্রেরণ করেছেন। তেমনি ভাবে সংশ্লিষ্ট জাতির মাতৃভাষায় কিতাব ও প্রদান করেছেন।

একুশের মহান চেতনা আমাদের জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে রয়েছে একুশের চেতনা।

ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই মূলত স্বাধীনতার আন্দোলনের শুরু। একুশের চেতনার যে বীজ সেদিন বপন করা হয়েছিল, তার বিশাল মহীরুহ পরবর্তীতে স্বাধীনতার স্নিগ্ধ ছায়ায় বেড়ে উঠেছিল। যার ফলে আজ আমরা স্বাধীন।

লেখক:জহিরুল ইসলাম আব্দুল্লাহ,
ধর্মীয় আলোচক বিটিভি ও আরটিভি

যুগান্তর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com