1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জগন্নাথপুরে বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই: প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হামলায় যুবক নিহত, আহত ৪ জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এমপি, দিলেন অনুদান জগন্নাথপুরে শফিকুল আহমদ ভূঁইয়া ইসলামিক সেন্টারে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভোটযুদ্ধ কাল:ভোটারের রায়ের অপেক্ষা সিলেটে ট্রিপল মার্ডার,বাবা-মায়ের শেষ বিদায়ে প্রবাসী সন্তানরা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ আজ আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর ইসলামের দৃষ্টিতে বন্ধুত্ব ও বিরোধের মানদণ্ড

অসহায় নারীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক রাজকুমারী

  • Update Time : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ২১৭ Time View

রাজকুমারী তিজকার খাতুন ছিলেন সুলতান রোকনুদ্দিন বাইবার্সের কন্যা এবং মিসরের ইতিহাসে একজন অনন্য সাধারণ মুসলিম নারী। যিনি তাঁর ধন-সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। বিশেষত তিনি শিক্ষা, নারী শিক্ষা, অসহায় নারীদের আশ্রয় দান ও চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণে বিশেষ অবদান রাখেন।
তাঁর পিতা সুলতান মালিক জহির রোকনুদ্দিন বাইবার্স ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সফল মুসলিম শাসক ও সাহসী বীর সেনাপতি। তিনি সপ্তম ক্রুসেড যুদ্ধে ইউরোপের সম্মিলিত বাহিনীকে এবং আইনে জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলীয় বাহিনীকে পরাজিত করেন। উভয় যুদ্ধে তাঁর বিজয় ইতিহাসের বাঁক বদলে দিয়েছিল। যদিও তিনি চতুর্থ মামলুক শাসক ছিলেন, তবু তাকেই মামলুক সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
নারী আশ্রয়কেন্দ্র : ৬৮৪ হিজরিতে সুলতান বাইবার্স ইন্তেকাল করার পর রাজকুমারী তিজকার খাতুন জনকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজগুলোর শীর্ষে ছিল নিরাশ্রয়, অসহায় ও বৃদ্ধা নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা। তারা তালাকপ্রাপ্তা হওয়া, অভিভাবক বা স্বামীর নিরুদ্দেশ ও মৃত্যু—যে কারণে পরিবারহীন হোক না কেন এই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেত। তাঁর এই আশ্রয়কেন্দ্র অসহায় ও বৃদ্ধা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আশ্রয় পেত সবাই : ঐতিহাসিকরা তাঁর আশ্রয়কেন্দ্রকে ‘রিবাত’ নামে উল্লেখ করেছেন। রিবাত অর্থ ঘাঁটি। রিবাত উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এমন ঘাঁটিকে বলা হতো, যেখানে একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চা করত, পীর ও তার মুরিদরা আধ্যাত্মিক সাধনা করত এবং সৈনিক সামরিক অনুশীলন করত। সম্ভবত নারী আশ্রয়কেন্দ্রে সব ধরনের নারীদের আশ্রয় মেলায় এটাকে রিবাত নাম দেওয়া হয়েছিল। একবার আশ্রয় পাওয়ার পর বিয়ে, সক্ষমতা লাভ বা মৃত্যু পর্যন্ত নারীরা রিবাতে অবস্থান করতে পারত।

সম্পদ ওয়াকফ করা : নারীদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ ওয়াকফ করেন তিজকার খাতুন। আর তিনি তা করেছিলেন যেন তাঁর মৃত্যুর পরও আশ্রয়কেন্দ্রটি যথানিয়মে পরিচালিত হয় এবং আশ্রয় নেওয়া নারীরা আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ে। ঐতিহাসিকরা বলেন, তিনি এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ ওয়াকফ করেছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর পর বহু আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠদান : আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া নারীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শাহজাদি তিজকার খাতুন সময়ের শ্রেষ্ঠ বিদ্যান নারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। নারীরা এখানে কোরআন, হাদিস ও ফিকহের (ইসলামী আইন) উচ্চতর জ্ঞান লাভ করত। এমনকি তারা চাইলে পবিত্র কোরআন হিফজ করার সুযোগ পেত। পাঠদানকারী নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিলেন জয়নব বিনতে আবিল বারাকাত বাগদাদিয়া (রহ.)। ৭৯৬ হিজরিতে ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি এখানে পাঠদান করেন।

পাঠদানকারী নারীদের মধ্যে পাণ্ডিত্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন ফাতিমা বিনতে আব্বাস বাগদাদিয়া (রহ.)। জ্ঞানে-গুণে অগ্রণী এই নারী আধ্যাত্মিক সাধনায়ও সাফল্য অর্জন করেন। ইমাম জাহাবি (রহ.) একবার রিবাতে এসে ফাতিমা বিনতে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এই নারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com