1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

ওস্তাদের হয়ে শিষ্যের হাজতবাস!

  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৩৭০ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবি ‘আয়নাবাজি’র কাহিনির সঙ্গে ঘটনাটির মিল রয়েছে! ছবির নায়ক টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে জেল খাটতেন। বাস্তবের এই ব্যক্তি গুরুর কথা মানতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন। গুরুর অপরাধ কাঁধে নিয়ে এখন জেল খাটছেন। বোকা বনেছে পুলিশও। জেলে ঢোকানোর সাত দিন পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ব্যক্তি সেই ব্যক্তি নন। আসল অপরাধীকে ধরতে এবার কারাগারে আটক শিষ্যের রঙিন ছবি নিয়ে তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নাটোরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত এই নির্দেশ দেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি কলিমুদ্দিনের (৪৫) হয়ে জেল খাটছেন তাঁর শিষ্য আজাদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক। তিনি সিংড়া উপজেলার গুটিয়া গ্রামের আবদুল গণির ছেলে।

নাটোরের আদালত-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সরকার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার গুটিয়া গ্রামের আখের প্রামাণিকের ছেলে কলিমুদ্দিনের বাড়ি থেকে ১০০ লিটার মদ উদ্ধার করেন। বাড়ির মালিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আটক করা হয় আমির হামজা নামের এক মাদকসেবীকে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক কলিমুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও আমির হামজার বিরুদ্ধে ওই দিনই সিংড়া থানায় মামলা হয়।

৭ এপ্রিল ওই আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত ১০ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপরও আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বাড়ির মালামাল ক্রোক করার নির্দেশ দেন।

পরে ২৭ সেপ্টেম্বর পলাতক আসামি কলিমুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম আইনজীবীর মাধ্যমে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাত দিনের মাথায় ৪ অক্টোবর ধরা পড়ে জেলে আটক কলিমুদ্দিন আসল কলিমুদ্দিন নন। আসল কলিমুদ্দিন আদালতে হাজিরই হননি। কলিমুদ্দিন সেজে আদালতে ওই দিন হাজির হয়েছিলেন আজাদুল ইসলাম!

ওই দিনই আদালত-পুলিশ বিষয়টি আদালতের নজরে আনে। ঘটনা শোনার পর আদালত সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নাটোর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কলিমুদ্দিনের হয়ে জেল খাটা আজাদুলের রঙিন ছবি সংগ্রহের পর সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কারাগার থেকে আজাদুলকে ১০ অক্টোবর আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেন।
১০ অক্টোবর কলিমুদ্দিন নামধারী আজাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি আদালতের খাসকামরায় জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, তিনি কলিমুদ্দিনের শিষ্য। আদালতের এক কর্মচারী ও এক আইনজীবীর পরামর্শে প্রকৃত আসামি কলিমুদ্দিন তাঁর হয়ে তাঁকে (আজাদুল) আদালতে হাজির হতে বলেছিলেন। হাজির হলে যে হাজতে যেতে হবে, তা তিনি জানতেন না। জানলে তিনি মিথ্যা পরিচয়ে হাজির হতেন না বলে অনুশোচনা করেন।

আদালত-পুলিশের নথি উপস্থাপক (জিআরও) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘আজাদুলের লোকজনের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর আমি বিষয়টি আদালতের নজরে দিই।’

এদিকে কলিমুদ্দিনের বদলে আজাদুলকে আদালতে হাজির হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী আজিম উদ্দিন। গতকাল দুপুরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে আসামি যে পরিচয় দিয়েছেন, সেই পরিচয়েই তিনি জামিনের আবেদন করেছেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর তিনি তা তদন্ত করে দেখার জন্য আদালতের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মণ্ডল গতকাল রাতে বলেন, তদন্তে আসামি কলিমুদ্দিনের পরিবর্তে তাঁর শিষ্য আজাদুলের জেল খাটার বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃত আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
মামলার দুই আসামি কলিমুদ্দিন ও মর্জিনা বেগমের জামিনের আবেদনে নাটোর দায়রা জজ আদালতে ১৭ অক্টোবর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com