মানবজীবনের পরম ও চূড়ান্ত প্রাপ্তি নির্ধারিত হবে কেয়ামতের সেই কঠিন ও ভয়াবহ দিনে, যখন প্রতিটি মানুষকে তার দুনিয়াবি কাজের হিসাব প্রদান করতে হবে। বহু মানুষ ভাবেন, নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন কিংবা নানা ইবাদত-বন্দেগি করাই বুঝি নাজাতের একমাত্র নিশ্চয়তা।
অথচ এক ভীতিপ্রদ ও গভীর বাস্তবতা তুলে ধরেছেন ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি বলেছেন, আমাদের সমাজে অনেকেই নিয়মিত নামাজ, রোজা বা নানা আমল করছেন সত্য, কিন্তু সঠিক আকিদা ও তাওহিদের জ্ঞান না থাকার কারণে অজান্তেই বিভিন্ন শিরক ও বিদআতে জড়িয়ে পড়ছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বিশ্বাস বা আকিদা যদি সঠিক না থাকে, তবে বহু আমল নিয়েও কোনো লাভ হবে না। এমনকি কেয়ামতের ময়দানে কেউ যদি পাহাড় পরিমাণ আমল নিয়ে উপস্থিত হয়, কিন্তু তার ঈমান ও আকিদা যদি বিশুদ্ধ না থাকে, তবে সেই বিশাল আমল আল্লাহর দরবারে একেবারেই বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো মূল্যহীন ও ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে অগণিত আমল থাকা সত্ত্বেও আকিদাগত ভুলের কারণে সেদিনের সেই কঠিন ময়দানে মানুষ সম্পূর্ণরূপে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে।
আমল কবুলের পূর্বশর্ত: বিশুদ্ধ ঈমান ও সহিহ আকিদা
আহমাদুল্লাহ জানান, ইসলামে যেকোনো ইবাদত আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রধান ও মৌলিক শর্ত হলো আকিদা সঠিক হওয়া। শিরকমুক্ত তাওহিদই হলো একজন মুমিনের জীবন গড়ার মূল ভিত্তি। ঈমানকে সকল প্রকার কুসংস্কার, কুফর, নিফাক ও শিরক থেকে পবিত্র রাখা অপরিহার্য।
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলতেন, তারা কোরআন শেখার আগেই ঈমান শিখেছেন। কিন্তু বর্তমানে সঠিক ঈমান শেখার এই চর্চা অনেকাংশেই অবহেলিত। অনেকেই মনে করেন কালিমায়ে তাইয়্যেবা বা কালিমায়ে শাহাদাহ পাঠ করা এবং মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে নামাজ-কালাম পড়াই মুসলিম হিসেবে যথেষ্ট। অথচ অজান্তে এমন কিছু কথা বলা বা বিশ্বাস পোষণ করা হতে পারে, যা ঈমানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং যার ফলে মানুষের অজান্তেই ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
নেক আমল ধূলিকণায় পরিণত হওয়ার পেছনের কারণ
হাশরের ময়দানে পাহাড়সম আমল নিষ্পলক ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো ঈমানের ভেতরে শিরক ও কুসংস্কারের অনুপ্রবেশ। ঈমান যদি বিশুদ্ধ না হয়, তবে কোনো নেক আমলাই আর কোনো কাজে আসে না। মানুষ হয়তো ভেবে নেবে সে অগণিত সওয়াব সঞ্চয় করে এনেছে, কিন্তু পরকালের বিচারে তা একেবারেই বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো উবে যাবে। তাই কেবল ইবাদতের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং সেই ইবাদত যে ঈমানি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাকে বিশুদ্ধ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
উত্তরণের উপায়: সঠিক ইলম অর্জন ও আত্মশুদ্ধি
এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে বেঁচে থাকতে হলে ঈমান ও তাওহিদ সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক বলে জানিয়েছেন আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, তাওহিদ ও শিরকের প্রকৃত পরিচয় কী, এর ধরন ও ভয়াবহতা কতটুকু—তা প্রতিনিয়ত জানতে হবে এবং ঈমান বিধ্বংসী বিষয়গুলো চিনে সেগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য তাওহিদ ও ঈমান বিষয়ক নির্ভরযোগ্য বই-পুস্তক পাঠ করা, আলেমদের লেকচার শোনা ও শিক্ষণীয় সেশনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বারবার আলোচনা ও চর্চা করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সর্বদা বিশুদ্ধ ঈমানের ওপর টিকে থাকার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে আকুল দোয়া করে যেতে হবে। সৌজন্যে কালবেলা.কম