স্টাফ রিপোর্টার::
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা ভিউ ও ফলোয়ার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জগন্নাথপুরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেটে ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশায় সাধারণ মানুষের আবেগ ও এলাকার মানসম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে ওই দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সর্বস্তরের জগন্নাথপুরবাসী।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে ‘সোনা মিয়া’ (৫০) ওরফে ‘সোনাই পাগলা’ নামের কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রকাশ্য মারধর এবং জোরপূর্বক মাথার চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এঘটনার সত্যতা জানার জন্য গণমাধ্যমের পক্ষে যোগাযোগ করা হলে দুইজনই স্বীকার করে পূর্বে বিরোধের কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি নির্যাতন ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদেরকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুইজনই ফানি ভিডিও বানাতে এমনটা করেছেন বলে জানান। এ ঘটনার জন্য তাঁরা ক্ষমা চেয়েছেন।
এই জঘন্য প্রতারণার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং যুবসমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছেন, শুধু মাত্র কিছু টাকা এবং সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এই কনটেন্ট ক্রিয়েটররা জগন্নাথপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
জগন্নাথপুরের সচেতন মহলের দাবি, ভাইরালের নামে এই ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদি এখনই এই ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে তরুণ সমাজ আরও বিভ্রান্ত হবে। জগন্নাথপুরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই দুই প্রতারক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জগন্নাথপুরের যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিপন তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন,
‘এদের কি কোন ভালে মানের সামাজিক আত্মীয় স্বজন নাই?এদের কর্মকান্ডে জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার মানক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি, তাদের ফালতু কনটেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমুলক গণআন্দোলন গড়ে তুলা সচেতন সমাজের দায়িত্ব’।
জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক রাসেল বক্স তাঁর ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন,
`মাখন আর সুনাই পাগলা- দুইটারে পৌর পয়েন্টে এক সাথে বেধে মাথা ন্যাড়া করা উচিৎ’।
প্রসঙ্গত, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা মাখন মিয়া গত বুধবার বিকেলে স্থানীয় রানীগঞ্জ বাজারে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে সোনা মিয়াকে প্রকাশ্য মারধর করে তাঁর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কর্তন করেন। এ ঘটনার কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমাদের নজরে এলে আমরা দুই জনের জবানবন্দি সংগ্রহ করি। তারা এঘটনায় ক্ষমা প্রার্থী।ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে জানায়।