1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রকাশ হতে যাচ্ছে ‘বর্ণরেখা’র ৭ম সংখ্যা লেখা আহ্বান    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জগন্নাথপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড  পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ জগন্নাথপুরে ৪০টি নিষিদ্ধ রিং জাল জব্দ, পরে পুড়িয়ে ধ্বংস আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দল থেকে বহিষ্কার বিএনপি নেতা জুমার দিন কখন দোয়া কবুল হয়, হাদিসে যা বলা হয়েছে চট্রগ্রামে বন্যার্তদের মধ্যে জগন্নাথপুরের মাতৃভূমি ফাউন্ডেশনের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ গাজী নজরু‌লের এম‌পি পদ বা‌তি‌লে স্পিকার-ইসিকে জামায়া‌তের চি‌ঠি

ভক্তের হৃদয়ে চীর অম্লান নায়ক সালমান শাহ

  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৫৭২ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডেস্ক:: আজো ভক্তের হৃদয়ে চীর অম্লান হয়ে আছেন অকাল প্রয়াত চিত্র নায়ক সালমান শাহ্। এ নামটি ৯০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের এক ধুমকেতুর নাম । যিনি বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মন জয় করে খুব তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে।
সালমান শাহ্ ১৯৭১ সালে সিলেট জেলায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। যদিও তাঁর মুল নাম চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন। কিন্তু চলচ্চিত্র জীবনে এসে হয়ে যান সালমান শাহ। সালমানের দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে আর নানার বাড়ি দারিয়া পাড়ায়। যে বাড়ির নাম এখন সালমান শাহ্ হাউস। নানার মুলবাড়ি ছিল মৌলভীবাজারে। সালমান শাহ্ ১২ আগস্ট ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন এবং তাঁর স্ত্রীর নাম সামিরা।
কী এমন রসসম্ভার ছিল সালমান শাহর অভিনয় কলায় ? কী এমন বৈচিত্র ও আকর্ষণ ছিল তাঁর দেহসজ্জায়, যার সামগ্রিক আবেদন কিশোর-কিশোরীদের নরম মনে টানটান অনুভূতির প্লাবন বইয়ে দিয়েছিল?
এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় সালমান শাহ্ অভিনীত ছবিগুলো থেকে। সালমান শাহ্ মারা গেছেন ১৯৯৬ সালে। মাত্র পাঁচ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন ২৭টি ছবিতে। এই স্বল্প সময়ে সালমান শাহর প্রাপ্তি ছিল আকাশচুম্বী। এত সাফল্যের পরও তাঁর জীবন কেমন ছিল, যা সালমান দীর্ঘায়িত করতে চাননি। নিজ যুক্তিতে স্বমুক্তি খুঁজেছেন? আনন্দ চুরি হওয়া জীবন থেকে বিদায় নিতে আত্মধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছেন, যা আজও সবার কাছে অজানা সংবাদ হয়েই রইল।
সালমান শাহ এর প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত। তাঁর বেশির ভাগ ছবিই দারুণ ব্যবসা সফল হয়। দর্শক এখনো মনে রেখেছেন কেয়ামত থেকে কেয়ামত প্রয়াত এই নায়ককে।
১৯ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর জন্মদিন আর মৃত্যুদিন ৬ সেপ্টেম্বর। এই দুটি দিনকে ঘিরে চলচ্চিত্রমহল এবং তাঁর পরিবার থেকে নানান আয়োজন করা হয়। তাঁর সঙ্গে ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেছেন শাবনূর।
সালমান শাহ্ স্মরণে শাবনূর বলেন, দিন-তারিখ ঠিক মনে নাই। কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির শুটিং। মা আর এহতেশাম দাদুর সঙ্গে এফডিসি গিয়েছিলাম। ঝর্না স্পটে একটি গানের শুটিং হচ্ছে। মৌসুমী আপু ছিলেন ওই গানের শুটিংয়ে। ইশারা করে এহতেশাম দাদু বললেন, ওই যে দেখ নতুন হিরো। নাম সালমান। তখন আমি কেবল চলচ্চিত্রে আসছি। এই হচ্ছে সালমান শাহর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। তবে সেদিন আমাদের কোনো কথা হয়নি। সুযোগও ছিল না। দেখেই চলে আসি।পরে মনে হলো, ধুর, এটা কোনো হিরো হইলো নাকি।
যেদিন ছবিটা রিলিজ হলো, আমি ছবিটা দেখতে এহতেশাম দাদুর সঙ্গে হলে যাই। মৌসুমী আপুও সেদিন সঙ্গে ছিলেন। সেনানিবাসের একটি হলের পর্দায় সালমানকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। এত চমৎকার অভিনয়। এত স্টাইলিশ একজন নায়ক।সালমানের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয় তুমি আমার ছবির শুটিংয়ে। ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে। পরিচয় হওয়ার পর সালমান বলল, এই পিচ্চি, তুমি কাজ করবা? তুমি শুটিং করবা?
সালমানের সঙ্গে আমার প্রথম ছবি তুমি আমার। তারপর থেকে ও আমাকে পিচ্চি বলেই ডাকত। আমাকে কখনো নাম ধরে ডাকেনি। একসময় আমরা একজন আরেকজনকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করতাম। সালমান বলত, ‘আমার কোনো বোন নাই তো, তুই আমার বোন।’
আমরা দুজন প্রথম একসঙ্গে ঢাকার বাইরে যাই রাঙামাটিতে। তুমি আমার ছবির শুটিং। আমরা একই হোটেলে ছিলাম। সালমানের স্ত্রী সামিরাও ছিল। সামিরা সব সময় আয়াতুল কুরসি পড়ত। সালমান আমার মাকে খুব সম্মান করত। ও তখন আমার মাকে বলত, ‘আন্টি আন্টি, আমার কলিজাটাকে (সামিরা) একটু দেখে রাইখেন।’ আম্মার সঙ্গে সামিরার চমৎকার সম্পর্ক ছিল। নৃত্য পরিচালক বাবু ভাইকে খুব ভয় পেত। বাবু ভাই না থাকলে ও আমার কাছ থেকে নাচটা দেখে নিত। সালমানের মা-বাবা দুজনই আমাকে খুব আদর করতেন। তাঁরাও আমাকে মেয়ের মতোই দেখতেন। সালমান আউটডোরে কোথাও শুটিং করতে গেছে, সেখানে জুতা পছন্দ হয়েছে। কিংবা কোনো জামা পছন্দ হয়েছে। আমার জন্য সেই জুতা কিংবা জামা কিনে নিয়ে আসত। হঠাৎ এমন উপহার পেলে খুব ভালো লাগত। সালমানের চেয়ে সামিরা আমাকে বেশি উপহার দিত। দেখা গেল, কোনো শুটিংয়ের সময় ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করা কোনো গয়না তাঁর কাছে আছে, সঙ্গে সঙ্গে তা আমাকে দিয়ে দিত। চুড়িও পরিয়ে দিত। আমাকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিত।গাড়ি চালাতে সালমান খুব ভালোবাসত। ও খুব ভালো ড্রাইভ করত। সালমান অনেক বড় মনের একজন মানুষ ছিল। ও মানুষকে শ্রদ্ধা করতে জানত। একদিন আমার মা শুটিংয়ের সেটে গেছে, সেখানে বসার কিছু ছিল না। হঠাৎ ও পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে প্রোডাকশনের একজনকে বলল দ্রুত একটা মোড়া কিনে নিয়ে আসার জন্য। মুরব্বিদের কীভাবে শ্রদ্ধা, ছোটদের কীভাবে আদর করতে হয়, সেটা সালমান খুব ভালো করেই জানত। সালমান মারা যাওয়ার পর প্রোডাকশনের এমন কোনো ছেলে বলেনি যে তাদের বাসায় সালমান যায়নি। প্রোডাকশন ছেলেদের সুখে-দুঃখে সালমান সব সময় পাশে ছিল। টাকা দিয়ে কিংবা মানসিকভাবেই হোক, সালমান তাঁর অবস্থান থেকে সবাইকে সহযোগিতা করে গেছে। চলচ্চিত্রের কেউ বিপদে পড়েছে অথচ সালমানের কাছে গিয়ে সহযোগিতা পায়নি, এমন নজির নাই। ভালো মনের একজন মানুষ। ওর যে শ্রদ্ধাবোধ ছিল, তা এখন অনেকের মাঝেই দেখি না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com