1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সিলেটের বিশ্বনাথের যুবক নিহত ৭ বছরের সাজা এড়াতে ৩০ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে গ্রেপ্তার লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ১ মাসে ১৩ হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক অশান্তি বাড়াচ্ছে মাদক, ঝরছে তাজা প্রাণ ১৪ দিন বয়সী সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক লিবিয়া ফেরত সুনামগঞ্জের ৬৬ তরুণ: ইউরোপের স্বপ্ন এখন দেনা আর নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুখের কথার মূল্য ও ওয়াদা রক্ষার গুরুত্ব র‌্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে এসআরবি, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন ছাতকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লিবিয়া ফেরত সুনামগঞ্জের ৬৬ তরুণ: ইউরোপের স্বপ্ন এখন দেনা আর নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ৯৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী গত দুই মাসে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই রয়েছেন ৬৬ জন। ফেরত আসা এসব তরুণ উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা নানা ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের ছেলে আল আমিন। ২০২২ সালে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। পর্যটন ভিসায় প্রথমে দুবাই যান। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর লিবিয়ায় পাড়ি জমান। লিবিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন বছর কাজ করেন তিনি। এ সময় কোনো কোনো মাসে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছেন।

পরে ভৈরবের এক লিবিয়া প্রবাসী দালালের মাধ্যমে সাড়ে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার চুক্তি করেন আল আমিন। তিনি বলেন, চুক্তির পুরো টাকা দালালকে দেওয়ার পর একটি বোটে করে তাদের ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়। প্রায় ৬২ ঘণ্টা সমুদ্রে ভাসার পর লিবিয়ার পুলিশ তাদের আটক করে।
আল আমিন জানান, পরে ওই দালাল পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আবারও গ্রিসে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও লিবিয়ার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর এক মাস পাঁচ দিন কারাভোগ করেন। পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন।
শুধু আল আমিন নন, গত দুই মাসে সুনামগঞ্জের ৬৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের অনেকেই লিবিয়ায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী নিজেরাই দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইউরোপে উন্নত জীবনের সেই স্বপ্ন এখন তাদের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। জায়গা—জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি জমানো এসব অভিবাসন প্রত্যাশীর মাথায় এখন মোটা অঙ্কের ঋণের বোঝা।

দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের খেজাউরা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ফজর আলী বলেন, ৪ বছর আগে সৌদি, তুর্কি হয়ে লিবিয়ায় গিয়েছি। যাওয়ারপর দালাল ওই দেশের মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। টাকার জন্য মাফিয়া অত্যাচার নির্যাতন করতো। মাফিয়া থেকে বাঁচতে দেশ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে দিতে হয়েছে। এরপরও মাফিয়া আরেকটি চক্রের কাছে আমাদের হন্তান্তর করে। ওই চক্রটি গেইম দিবে বলে আরও ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। তাদের দাবিমতো ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর সমুদ্রের পাড়েই পুলিশ আমাদেরকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেতেও আরও ৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেশে এসেছি।

জামালগঞ্জের মো. আহাদুল্লাহ বলেন, লিবিয়ায় যাওয়ার পর চার মাস পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। স্বপ্ন ছিল ইউরোপে যাওয়ার। এ জন্য এক দালালের সঙ্গে আট লাখ টাকায় চুক্তি করি। প্রথমে তিন লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়ায় যাই। পরে বাকি পাঁচ লাখ টাকার জন্য দালালরা আমাকে আটক করে মারধর করে। একপর্যায়ে কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে আসি। তখন আমার কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। তবে দালালরা দেশে আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা আমাকে দালালদের কাছে আটক মনে করে নির্যাতনের ছবি দেখে বাধ্য হয়ে ওই টাকা পরিশোধ করেন। তারা জানতেন না যে, আমি এরই মধ্যে পালিয়ে এসেছি। সৌজন্যে সুনামগঞ্জের খবর

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com