স্পোর্টস ডেস্ক :: শেষ পাঁচ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী রবিবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা।
মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই দলই শরীরি ফুটবলে আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। ১৯টি ফাউলে ভরা প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
বিরতির পর ম্যাচে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৩তম মিনিটে দলীয় আক্রমণ থেকে ডেকলান রাইসের পাসে মরগান রজার্স ডান প্রান্ত থেকে দারুণ একটি ক্রস তুলে দেন। সেই বল থেকে অ্যান্থনি গর্ডন এক ছোঁয়ায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। ৬৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর ৭৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল থেকেও নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন পিকফোর্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারেননি এই গোলরক্ষক। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের জোরালো শট জালে জড়িয়ে গেলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় লাতিন আমেরিকার দলটি। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে আবারও পোস্টে আঘাত হানে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট। এরপর যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে দারুণ এক জয় নিয়ে টান দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো
এখন শিরোপার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ স্পেন। বহুল প্রতীক্ষিত সেই ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব ফুটবল পেতে যাচ্ছে নতুন এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সাক্ষী।