1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

স্বপ্ন ভাঙতে দিলেন না ইউএনও, আর্থিক সহযোগিতায় কলেজে ভর্তির সুযোগ পেল ছাইমা

  • Update Time : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

স্টাফ রিপোর্টার::

দরিদ্রতাকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে গৌরবময় ফলাফলে উত্তীর্ণ হলেও অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল মেধাবী শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ছাইমা বেগমের। ঠিকই সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়ালেন জগন্নাথপুরের ইউএনও ইসলাম উদ্দিন। ইউএনওর আর্থিক সহযোগিতায় আজ সোমবার ছাইমা সিলেট মদনমোহন কলেজে একাদশ শ্রেণি ভর্তি হয়েছে।

ছাইমা বেগম জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুরের বাসিন্দা দরিদ্র আব্দুর রহমানের মেয়ে।

জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরএলাকার ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ছাইমা বেগম এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে জিপিএ-৫ নিয়ে অসাধারণ ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়। ওই বিদ্যালয়ের একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৫টি কলেজে আবেদন করে ছাইমা। এরমধ্যে সিলেট মদনমোহন কলেজে ভর্তির যোগ পায়। কিন্তু অর্থ সংকটে তাঁর ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ইসহাকপুর এলাকার দিনমজুর আব্দুর রহমান ও জেসমিন বেগমের দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছাইমা বেগম। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যমে আব্দুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বড় ছেলে টমটম চালিয়ে সংসারের যোগান যোগাতে হচ্ছে। অভাব আর টানাপোড়নের সংসার। এরমধ্যে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার ব্যয়ভার হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে ছাইমার উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছিল। অনিশ্চয়তা দেখা দেয় কলেজে ভর্তি নিয়ে। অর্থ সংকটে যখন তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন সংবাদ পেয়ে দরিদ্র  অদম্য এই  শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন।

ছাইমার শিক্ষার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যাবতীয় ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি। এছাড়া ছাইমার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বস্থ করেন। মানবিক এমন পদক্ষেপে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও।

এবিষয়ে শিক্ষার্থী ছাইমা বেগম বলেন, অভাবের সংসারে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তখন আমার এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউএনও স্যার। স্যারের আর্থিক সহযোগিতায় কলেজে ভর্তি হয়েছি। তাঁর এই অবাদানে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।

আবেগপ্লুত ছাইমা জানায়, আমি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চাই। এজন্য সে সবার দোয়া চেয়েছে।

ছাইমার মা জেসমিন বেগম বলেন, অভাব-অনটনের সংসারে আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ভালো রেজাল্ট করেও,যখন ভর্তি হতে পারছিল না। তখন ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় কলেজ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দোয়া করে আল্লাহ স্যারকে ভালো রাখুন।

ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজউদ্দিন আহমদ বিষয়টিক সততা নিশ্চিত করে
বলেন, অর্থ সংকটের কারণে মেধাবী ছাইমার লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়েছিল। ইউএনও স্যারের আর্থিক অনুদান এবং সহযোগিতায় ছাইমার উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথ সুগম হলো। স্যারের এই অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, একজন মেধাবীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়ানোর চেস্টা করেছি মাত্র।তার পড়াশুনায় আর্থিক সাহায্য ও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। থাকা খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো। আশাকরি একটা ব্যবস্থা করতে পারবো।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com