স্টাফ রিপোর্টার::
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত হওয়া ১২০ প্রার্থীর মধ্যে ১১৫ জন অবশেষে যোগদানপত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার সাতজন রয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস আদেশে প্রথম দফায় তাদেরকে যোগদানপত্র নেবার নির্দেশনা না দেওয়ায় শনিবার চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। এর একদিন পর রোবার রাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে ১১৫ জনকে যোগদানপত্র নেবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বাকি পাঁচজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায় নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী অবশ্য বলেছেন, তাদের নিয়ে উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
আনন্দ বিষাদের পর খুশি জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে বাদ পড়া সাতজন।
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়নগর কুশরাই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আরিফ উদ্দিন। গভীররাতে নিয়োগ পত্রের চিঠি শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পেয়ে এ প্রতিবেদক কে আনন্দ উচ্ছ্বাসের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,আলহামদুলিল্লাহ! তিনি বলেন গত আট মাস ধরে চাকুরিতে যোগদানের অপেক্ষা করছিলেন। বৃহস্পতিবার বাদ পড়ার খবর পেয়ে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ে। অতঃপর অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাতে নিয়োগপত্র অনলাইনে দেখতে পাই। দুশ্চিন্তা দূর হয়।
আশারকান্দি ইউনিয়নের দিঘলবাক কালানজুড়া গ্রামের সুহেল মিয়া বলেন, অনেক সংগ্রাম করে দক্ষিণ সুরমা কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টে অনার্স পাশ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চাকুরি আমার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। বাদ পড়ায় সংবাদে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। খুশির খবর পেয়ে ভালো লাগছে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত নিতে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
একই ভাবে কলকলিয়া ইউনিয়নের কালিটেকি গ্রামের পপি রানী দেবনাথ, গোড়ারগাঁও গ্রামের রূপম দাস, সুপারমাহমদপুর গ্রামের সুজন কান্তি দাস, আশারকান্দি ইউনিয়নের জহিরপুর গ্রামের রিক্তা বেগম, দিঘলবাক কালানজুড়া গ্রামের সুহেল মিয়া, ঘোষগাঁও গ্রামের জেবুল মিয়া নিয়োগপত্র পেয়ে আনন্দিত।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জগন্নাথপুর উপজেলার ৭৯ জন উত্তীর্ণ হন। এরমধ্যে একজন কাগজপত্র জমা না দেয়ায় ৭৮ জন চুড়ান্ত মনোনীত হন। এরমধ্যে
প্রথমধাপে নিয়োগপত্রে ৭ জন বাদ পড়ে। পরে ওই সাতজনের নিয়োগপত্র তৈরি হয়।
১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তরা যোগদান করবেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদানের পর কর্মস্থলে যোগ দিবেন। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয় ভিত্তিক পদায়নের কাজ চলছে ।