মানুষ কখনো অজান্তে ভুল পথে পা বাড়ায়, আবার কখনো জেনেবুঝেই পাপে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু প্রকৃত মুমিন যত ভুলই করুক, দিনশেষে নীরব নিভৃতে যখন পাপের কথা মনে পড়ে, তখন সে অনুতপ্ত হৃদয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরে আসে। ক্ষমা চাওয়ার এই মানসিকতাই মুমিনের পরিচয়।
পাপের অন্ধকার জীবন পেছনে ফেলে রবের ক্ষমা ও ভালোবাসা পাওয়ার আশায় জবানে ইস্তিগফার জপা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সারাদিন বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করে তওবা করা ছিল প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম প্রধান সুন্নত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ, তবু তিনি প্রতিদিন আল্লাহর দরবারে একশত বারেরও বেশি ইস্তিগফার করতেন। তিনি উম্মতকে শিখিয়েছেন, ইস্তিগফারের মাধ্যমে শুধু পাপই মোচন হয় না, জীবনের কঠিনতম সংকট থেকে মুক্তির পথও খুলে যায়।
ইস্তিগফারের বাক্য: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। আর আমি তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরেরও বেশিবার আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার ও তওবা করি। (বুখারি, ৬৩০৭)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের পথ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ, ১৫১৮; ইবনে মাজাহ, ৩৮১৯)
ইস্তিগফার অন্তর থেকে গোনাহের কালো দাগ মুছে দেয় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেয়। তাই দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে, পথচলায় কিংবা অবসরে জিহ্বাকে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ দিয়ে সিক্ত রাখুন। প্রিয় রাসুল (সা.)-এর এই আমলকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিই, যেন আমাদের আত্মা ক্ষমা ও অনুশোচনার পবিত্রতায় ভরে ওঠে।
সৌজন্যে খবরের কাগজ।