1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: ডা. শফিকুর রহমান নেপালে ১০ দিন পর এক নারীসহ ২ জনকে জীবিত উদ্ধার জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা আশুলিয়ায় বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার একটি ভালো কাজ অন্য ভালো কাজের সহায়ক জগন্নাথপুরে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসীর সমর্থন পেলেন রেজা জগন্নাথপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন  হবিগঞ্জে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর কিশোর উদ্ধার জগন্নাথপুরে শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না ৭ ঘন্টা

পাইলগাঁওয়ের জমিদার

  • Update Time : বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৬
  • ৯২৯ Time View

আবুল কাশেম আকমল::
সুনামগঞ্জের আতুয়াজান পরগনার পাইলগাঁওয়ের প্রথম জমিদার ব্রজনাথ চৌধুরী প্রথম জীবনে সিলেট জজ আদালতে উকিল ও অনারারি ম্যাজিষট্রেট ছিলেন । তাঁর দুই পুত্র রসময় চৌধুরী ও সুখময় চৌধুরী ।

ব্রজনাথ চৌধুরীর প্রথম পুত্র রসময় চৌধুরী ছিলেন বিষয়বুদ্ধি সম্পন্ন প্রজাহিতৈষী জমিদার । তিনি ১৯০৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন | তাঁর স্মীতি রক্কারতে সিলেট মির্জাজাঙ্গাল মহল্লায় রসময় হাইস্কুল প্রতিষটা করা হয় । রসময় চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র ব্রজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী পাইলগাঁওয়ের যৌথ জমিদারী স্টেটের দায়িত্ত গ্রহন করেন।

ব্রজনাথ চৌধুরীর দ্বিতীয় পুত্র জমিদার সুখময় চৌধুরী ১৮৬৬ সালে জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯৪২ সালে পরলোক গমন করেন । তিনি ১৮৯৬ সাল থেকে ১৯৩৬ সাল পরযন্ত দীর্ঘ ৪০ বছর প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষট্রেট হিসাবে বিচারের দায়িত্ত পালন করেন । তাঁর সুবিচারে বাদী বিবাদী উভয়পক্ক সন্তুষ্ট হত । হাকিম হিসাবে তিনি প্রভূত সুনাম অর্জন করেন । তাঁর পুত্র বলাই অকালে মৃত্যু বরণ করে। তিনি স্বীয় পিতার স্মৃতির স্মরণে নিজ গ্রাম পাইলগাঁওয়ে ১৯২৬ সালে ব্রজনাথ হাইস্কুল স্থাপন করেন । তিনি সিলেট এমসি কলেজ, সংস্কৃত কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল, গভর্নমেন্ট হাইস্কুল, গার্লস হাইস্কুল, এ সবকটি শিক্ষা প্রতিশ্তানের পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

পাইলগাঁওয়ের সরব শেষ জমিদার বজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরি ১৮৮২ সালে জন্ম গ্রহন করেন । তিনি তিকন বুদ্ধি সম্পন্ন ও মেধাবি ছাত্র ছিলেন । ক্রিতিত্তের সাথে এমএ ও বিএল পাশ করার পর ১৯০৭ সালে সিলেট বারে যোগদেন ও বছর খানেক অকালতি করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি জমিদারির পাশাপাশি রাজনীতি ও সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ১৯২৩ সাল পরযন্ত স্বরাজ্য দলের নেতা ছিলেন। ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় জিলা কংগ্রেসের সভাপতিরূপে ব্রজেন্দ্র নারায়ন বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ২য় আইন অমান্য আন্দোলন করেন ১৯৩২ সালে। দু’বারই তিনি কারারুদ্দ হন। তিনি ছিলেন সত্তিকার অরতে জননেতা। প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় পরিষদে সরব্দাই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ব্যবস্তা পরিষদের সদস্য ছিলেন। কংগ্রেস হাই কমান্ডের সাথে মতবিরোধ হওয়ায় ১৯৪০ সালে তিনি সদস্যপদ ত্যাগ করেন।

তার উদ্যোগে ১৯৩৯ সালে সিলেট মহিলা কলেজ স্থাপিত হয়। তিনি দুই বছর ঐ কলেজের অবৈতনিক অধ্যক্ষ ছিলেন। তার চউহাত্তার বাড়িতেই বর্তমান সরকারি মহিলা কলেজ অবস্তিত।

সমাজ সেবক ছাড়াও তিনি ছিলেন সুসাহিত্যিক। তার রচিত পাইলগাঁও ধর বংশাবলী ও স্মৃতি ও প্রতীতি উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্ম। এছারা তিনি জনশক্তি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

দেশ বিভাগের পর অনেক হিন্দু নেতাই ভারতে চলে যান। কিন্তু বজেন্দ্র নারায়ন সিলেটের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। ১৯৭২ সালে তিনি গুরুতর অসুস্ত হয়ে পরলে চিকিৎসার জন্য কলিকাতা নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com