জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অনলাইন জুয়ায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হেরে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তিন কর্মী। পরে তারা অন্যদের সঙ্গে মিলে টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ থেকে ৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮), একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন (২৭), সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আবু তালেব (২২), অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী। সুজন ও আবু তালেব ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা এবং রাসেল বাবু অফিস সহায়ক।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদিমদিঘী রেলগেট থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশে রওনা হন। ওই শাখার মালিক ফিরোজ হোসেন।
বেলা একটার দিকে রাণীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তাদের পথ রোধ করে। এরপর লোহার স্টিক দিয়ে তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি দল গঠন করা হয়। ওই দিন রাত ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা-পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক সূত্র পায়। পরে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয় এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ৭ অক্টোবর তার তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালায়। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রাণীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং অফিস সহায়ক রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাসেল, সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়া খেলছিলেন। এতে তাদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়। পরে তারা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করেন এবং সেই টাকাও হারান।
এরপর তারা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে স্বপন, হাসানসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করেন। প্রায় এক মাস ধরে তারা পরিকল্পনা করেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে রাসেল বাবু স্বপন, হাসানসহ পলাতক সহযোগীদের তাদের অবস্থান জানাতে থাকেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বপন ও হাসানসহ অন্যরা তাদের পথ আটকান, মারধর করেন এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ সুপার বলেন, ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিলেন প্রকৃত ভুক্তভোগী। তাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, টাকা বহনকারী অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সাজানোভাবে উপস্থাপন করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীদের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তারা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সব আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র সমকাল