1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
এক ফোনালাপেই ফাঁস হলো ৩ বছর আগের লোমহর্ষক খুনের রহস্য! যুক্তরাজ্যে স্বজনদের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ জালিয়াতি, বাংলাদেশির কারাদণ্ড ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী যৌবন আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময় কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শতভাগ পাশ নেই জগন্নাথপুরে মা-বাবার মতো শিক্ষক হতে চায় এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের জেরিন রাধারমণের ১১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতিসভা জগন্নাথপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী

  • Update Time : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

৫২ বছর বয়সে জিপিএ ৪.২১ পেয়ে এইচএসসি পাস করে এক অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলার গৃহবধূ শেফালী বেগম। শৈশবে বাবাকে হারিয়ে ও পারিবারিক সংকটে অষ্টম শ্রেণিতেই তার পড়াশোনা থেমে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে যায় তিন সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব সামলাতে। তবে উচ্চশিক্ষার অদম্য স্বপ্ন তিনি হারিয়ে যেতে দেননি।

পরিবারের উৎসাহে ৪৮ বছর বয়সে আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নেন শেফালী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডোমার উপজেলার গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশের পর জানা যায় তার এই অসাধারণ সাফল্য। তিন সন্তানের মা ও এক সন্তানের দাদি শেফালী বেগম প্রমাণ করলেনÑ ইচ্ছাশক্তি থাকলে শেখার বা স্বপ্ন পূরণের কোনো বয়স নেই।

শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম মজনু একজন কৃষক। তিনি বলেন, ‘শেফালী পরিবারের জন্য নিজের অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করেছে। দীর্ঘদিন পর নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তার এই সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত।’

শেফালীর তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আব্দুর রাজ শাফি বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে আব্দুল রাজ্জাক ডিমলায় ব্যবসা করেন। বড় ছেলের বিয়ে দিয়েছেন, ঘরে এসেছে পুত্রবধূ। নাতনিও রয়েছে তার।

শেফালীর নাতনি ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারাফি রাজ বলে, ‘আমার দাদি আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ৫২ বছর বয়সে দাদি এইচএসসি পাস করেছেন, এতে আমি ভীষণ খুশি ও গর্বিত। দাদির এই সাফল্য দেখে আমিও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে চাই। বড় হয়ে আমি চিকিৎসক হতে চাই। দাদি আমাকে শিখিয়েছেন, মন দিয়ে চেষ্টা করলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।’

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শেফালী বেগম বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে সংসারের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষাগুলোতে বরাবরই মেধা তালিকায় ছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। পরে স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে আবার পড়াশোনা শুরু করি। আজ ৪.২১ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করতে পেরে মনে হচ্ছে, জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ সূত্র-দেশ রূপান্তর

 

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com